উন্নত প্রযুক্তি আমাদের ধ্বংস করছে না তো?

আপনি প্রযুক্তিতে কতটা আচ্ছন্ন? আপনি কি আপনার কম্পিউটার বা মোবাইলে ফোনে সারাদিন ব্যয় করেন? অথবা আপনি কী নিরাপদে বলতে পারবেন যে, টেকনোলজি আপনার জীবনের একটি বড় অংশ নয়? যাই হোক, যেহেতু আপনি এই আর্টিকেলটি পড়ছেন , তাই এটা বলাই যায় যে আপনিও তুলনামূলকভাবে একটি আধুনিক জীবনযাপন করছেন। কিন্তু আপনি কি একবারও ভেবে দেখেছেন, এই প্রযুক্তিই কিভাবে আমাদের মানব জাতিকে ধীরে ধীরে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

হয়তো বা ভাবছেন, যে প্রযুক্তির লক্ষ্যই হলো আমাদের জীবনকে সহজ এবং সুন্দর করা, সেটা আবার কীভাবে আমাদের ধ্বংস করতে পারে? হ্যাঁ, অবশ্যই পারে এবং বর্তমানে তা হচ্ছেও।

আমার কথা যদি বিশ্বাস না হয়ে থাকে, তাহলে পুরো আর্টিকেলটি মন দিয়ে পড়ার অনুরোধ রইলো। আর পড়া শেষ হলে আপনিই বলবেন, প্রযুক্তি আমাদের জীবনে কতটুকু আশীর্বাদ আর কতটুকুই বা অভিশাপ বয়ে আনছে এবং এর প্রভাবে আমাদের ভবিষ্যত পৃথিবী কেমন হতে চলেছে। নিম্নে আমি প্রযুক্তি প্রভাবান্বিত কিছু বিষয় তুলে ধরবো এবং এও বিশ্লেষণ করে দেখার চেষ্টা করবো যে এসব আমাদের জীবনব্যবস্থা ও আমাদের বাসস্থান পৃথিবীকে কীভাবে দিন দিন ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। তাহলে চলুন শুরু করা যাক। প্রথমত-

ইন্টারনেট আসক্তিঃ যুবসমাজের অবক্ষয় এবং আমাদের অন্ধকার ভবিষ্যৎ

বর্তমান সময় এর এক তুমুল আলোচনার বিষয় হলো ইন্টারনেট আসক্তি। আর কম্পিউটার ও ইন্টারনেট ব্যবহার করে আমরা আমাদের জীবনব্যবস্থার ক্ষেত্রে যতটা পরিবর্তন এনেছি, তা আর অন্য কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে সম্ভব হয় নি। বাংলাদেশের তথ্য ও যোগাযোগ মন্ত্রনালয়ের এক জরিপ অনুযায়ী, শহরের প্রায় ৯৫% এবং গ্রামের প্রায় ৬০% কিশোর কিশোরীরা ইন্টারনেটের প্রতি আসক্ত। আর এর প্রভাব যে কতটা ভয়ানক হতে পারে, তা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না। প্রথমে দেখা যাক, এই ইন্টারনেট আসক্তি কতভাবে হতে পারে-

সাইবার অশ্লীলতাঃ অনলাইন খারাপ ভিডিও এবং অ্যাডাল্ট ভিডিও এর সাইট এক্ষেত্রে অনেক বড় একটি উদাহরণ। বর্তমানে এটি তো দিন দিন আরো বেড়েই চলেছে। ইন্টারনেটে অ্যাডাল্ট সাইটগুলোর সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি সেগুলোতে কীভাবে সহজে এক্সেস পাওয়া যেতে পারে তার উপায়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে আমাদের অধিকাংশ ছেলে মেয়েদের এসব অশ্লীল সাইটে ভ্রমণের ফলে তাদের যৌন চাহিদা বাড়ছে আর সেই সাথে সমাজে বাড়ছে ধর্ষণের মত কিছু জঘন্য অপরাধ। আর যা দিন দিন আমাদের এক অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকেই ঠেলে দিচ্ছে।

অনলাইন রিলেশন্সিপঃ এখন তো অনলাইনে প্রেম করা বিষয়টি একটি ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে। যেখানে একজন আরেকজনকে না পাচ্ছে ভালোভাবে চেনার সুজোগ, না পারছে তার আসল পরিচয় জানতে। ফলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এসব সম্পর্কের শেষ হয় হতাশা আর সুইসাইডের মত ভয়ঙ্কর কিছু দিয়ে।

তাছড়া সম্পর্কের কারণে পরিবারের সাথে শুরু হচ্ছে মনমালিন্য আর পড়াশুনার যে কি অবস্থা হয়, তা তো কারো মনেই থাকে না। প্রযুক্তির এমন প্রসারে এখন সহজেই একজন আরেকজনের সাথে যোগাযোগ করতে পারছে, আর সেই সুজোগকেই কাজে লাগিয়ে এখনকার তরুন তরুনীরা ঝুকে পড়ছে অনলাইন প্রেমের প্রতি। যা তাদের এক অন্ধকার ভবিষ্যৎ উপহার দেয়ার জন্য যথেষ্ট।

ভিডিও গেমস আসক্তিঃ তুমিও কি ফ্রি ফায়ার খেল? আইডির নাম কী? রাতে একসাথে ডুয়াল খেলবো। আজকাল রাস্তা দিয়ে চলতে গেলেই দেখা যায় একদল তরুনরা একসাথে জড়ো হয়ে বসে থাকে। আর প্রত্যেকের মাথা গুজানো থাকে তাদের নিজ নিজ মোবাইল ফোনে। কি যেন এক অজানা নেশায় তারা মেতে উঠেছে। হ্যাঁ, বলছিলাম , পাবজি আর ফ্রি ফায়ারের কথা। বর্তমান সময়ের অন্যতম ভিডিও গেমস। আর এই ধরনের আসক্তিকে বিশেষজ্ঞরা মাদকাসক্ত থেকে কোন অংশেই কম করে দেখছেন না।

সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তিঃ ফেসবুক তো এখন আমরা প্রায় সবাই ব্যবহার করি। বলা হয়ে থাকে, সোশ্যাল মিডিয়াতে যারা যত বেশি এক্টিভ তারা বাস্তব জীবনে ততটাই ইনএকটিভ। আর বাস্তব জীবনে সক্রিয় না হলে ভবিষ্যত কিরকম হতে পারে, তা তো আমরা সহজেই আন্দাজ করতে পারি। সকালবেলাটা আমাদের শুরুই হয় মোবাইল হাতে নিয়ে, রাতে ঘুমানোর আগ পর্যন্ত সাথে থাকে আমাদের এই চির সাথি মোবাইল সেটটি। একবার, ভেবে দেখুন কি ভয়ানক এক অবস্থার সাথে আমাদের সমাজ আজ চলছে।

আরো পড়ুনঃ  স্যাটেলাইট কি ? স্যাটেলাইট সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন!!

যে শৈশবটা আমাদের কাটানোর কথা ছিল, মাঠে মাঠে হাডুডু আর গোল্লাছুট খেলায় মেতে। সেখানে ঘরের এক কোনে বসেই যেন পুরো ছেলেবেলাটা আমরা অনায়াসেই কাটিয়ে দিচ্ছি। যেদিকে আমাদের কোন ভ্রুক্ষেপও যেন নেই। এভাবে ইন্টারনেট আসক্তি যেমন আমাদের বাস্তব সমাজ থেকে দূরে ঠেলে দিচ্ছে, তেমনি মানসিক ও শারীরিকভাবে আমরা স্বীকার হচ্ছি নানানরকম অসুখ বিসুখে। যুবসমাজ অবক্ষয়ের অন্যতম মূল কারণ হিসেবে এখন ইন্টারনেট আসক্তিকে দেখা হয়। আর এই যুবকরাই তো আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম।

অধিক প্রযুক্তি নির্ভরতা আমাদের অদক্ষ এবং অলস করে তুলছে!


প্রযুক্তির ব্যবহার আমাদের জীবনকে যতটা না সহজ করে দিয়েছে, তার থেকে আমাদের বেশি অদক্ষ আর কর্মবিমুখ বানিয়েছে। শারীরিক কোন কাজ না করার ফলে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে ডায়াবেটিক্স এর মত আরো নানার রোগব্যাধি। এখন তো আমরা নিজের কাজগুলোই নিজে নিজে করতে চাই না। রোবটের ব্যবহার যদিও আমাদের দেশে এখনও তেমনভাবে প্রচলিত হয়নি, তবে উন্নত বিশ্বের অনেকে দেশে যে হারে এর ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে, তা থেকে নিসন্দেহে বলা যায়, আর কয়েক বছরের মধ্যেই আমাদের দেশেও রোবটের ব্যবহার সার্বজনীন ভাবে শুরু হয়ে যাবে।

এখন আমাদের হাতের কাছে রয়েছে মোবাইল ফোন। যেকোন তথ্যের জন্য আমরা গুগল মামার কাছে দৌড়াই। ফলে ইনফরমেশন মেমোরাইজ করে রাখার যে প্রয়োজনটা ছিল তা এখন আর নেই। ফলে দিন দিন আমরদের স্মৃতিশক্তিও কমে যাচ্ছে। আপনি একটু খেয়াল করলেই লক্ষ্য করে থাকবেন, দিন দিন এই প্রযুক্তির কারণে আমরা কি পরিমাণ অলস আর অদক্ষ হয়ে পরছি।

সম্পূর্ণ প্রযুক্তি নির্ভর এই বিশ্বে আমাদের যদি বলা হয়, একদিন, হ্যা শুধু একদিন কেউ কোন টেকনোলজি ব্যবহার করতে পারবে না। হয়তো এই একদিনেই পৃথিবীর জনসংখ্যা অর্ধেক কমে যাবে। কারণ কি জানেন? ডিপ্রেসন।। প্রযুক্তি ছাড়া আমরা এখন একদিনও চলতে পারি না। বিষয়টা একটু গভীরভাবে চিন্তা করলেই আপনি বুঝে যাবেন, অধীক প্রযুক্তি নির্ভরতা আমাদের ভবিষ্যতকে কীভাবে ধীরে ধীরে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।।

পরিবেশ দূষণঃ অন্যতম কারণ উন্নত প্রযুক্তির মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার

আপনি কি জানেন, মানবসভ্যতায় একুশ শতকের সবচেয়ে বড় হুমকি কী? হ্যাঁ, সেটা পরিবেশ দূষণ ছাড়া আর কিছুই নয়। আর পরিবেশ দূষণের মূল কারণ কী জানেন? উন্নত প্রযুক্তির অযাযিত ব্যবহার। যখন একটি প্রযুক্তি নির্মাণ করা হয়, তখন কিন্তু তা পরিবেশবান্ধব হচ্ছে কিন না, সে বিষয়টিও মাথায় রাখেন প্রযুক্তিবিদরা। তবে সমস্যাটা কোথায়?

এই যে ধরুন না, রেফ্রিজারেটরের কথা। এটা প্রথম যখন তৈরি করা হলো, সেটার দাম ছিল প্রায় সাধারণ মানুষের ধরা ছোয়ার বাইরে। তারপর এতে সাধারণ মানের কম্প্রেসর লাগানোর পর দাম প্রায় অর্ধেকেরও অনেক বেশি কমে গেলো। তারপর কি হলো? এই রেফ্রিজারেটর থেকে সি এফ সি নামক এক ভয়ানক গ্যাস বের হতে লাগলো। যা আমাদের সরাসরি খুব বেশি ক্ষতি না করলেও মাথার উপরে আকাশের যে লেয়ারটি আমাদের সূর্য থেকে অতি বেগুনি রশ্নি আসতে বাধা দিত, তা ধীরে ধীরে ছিদ্র করা শুরু করে। যার নাম ওজন লেয়ার। এই একই ঘটনা ঘটে যখন আমরা গরমকালে এসি ব্যবহার করি।

এভাবে শুধু সি এফ সি ই নয়। প্রযুক্তি দিন দিন যতই উন্নত হচ্ছে, তার পার্শপ্রতিক্রিয়ার সবচেয়ে বড় অংশ আমাদের পরিবেশের উপর হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কলকারখানা থেকে যত বর্জ্য বের হয়, তার প্রায় সবটাই ফেলা হয় নদী কিংবা সমুদ্রের পানিতে। ফলে জলজ জীবগুলোর যেমন ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি পানি দূষনের ফলে সমুদ্র পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে না হচ্ছে ভালো ফসল, না আমরা পাচ্ছি ভালো মানের খাদ্য। যার আলটিমেট প্রভাব আমাদের স্বাস্থ্যের উপরই পরছে। দিন দিন কমে যাচ্ছে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আর বৃদ্ধি পাচ্ছে, নানানরকম রোগ ব্যধী।

মোবাইল সেল টাওয়ার এর ভয়াবহতা!

কম বেশি সবার কাছেই এখন স্মার্টফোন কিংবা জাভা ফোনগুলো পৌঁছে গিয়েছেই। আর তারই সাথে উন্নত হয়েছে এখন মোবাইল নেটওয়ার্কিং ব্যবস্থা। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে একে অপরকে মেসেজ পাঠানো যায়। কিন্তু কিভাবে হয় তা?

আরো পড়ুনঃ  বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ১ : মহাকাশে স্যাটেলাইট জগতে বাঙ্গালীর পদার্পণ!!

কখনো মনে সে নিয়ে কি প্রশ্ন জাগে না?
আফসোস যদি জানতেন তাহলে একটিবারও হয়তো আপনাকে ভাবতে হতো মোবাইল ব্যবহারের আগে। আপনার জন্য বিষয়টি পরিষ্কার করতে চলুন এক বিশেষজ্ঞের মতামত শুনে আসা যাক।

সম্প্রতি মিস্টার মুরশিদ নামে এক ভদ্র লোক দেশে এই রেডিয়েশনের কারণে অর্থাৎ মোবাইল নেটওয়ার্ক বা টাওয়ারের রেডিয়েশনের কারণে পরিবেশের ক্ষতি সমন্ধে আদালতে তুলে ধরেন। তাহলে ভাবুন রেডিয়েশনের বিষয়টি শুধু আপনাকে নয় সবাইকে ছাড়িয়ে উপর মহল পর্যন্ত চলে গেছে।

কতটা ক্ষতিকর এটি?
অনেক বিশেষজ্ঞই এই রেডিয়েশনকে ক্যান্সারের কারণ হিসাবে চিহ্নিত করেছেন। আর বাচ্চাদের শরীরে ফ্লুইড জাতীয় পদার্থ তাদেরই আক্রান্ত হওয়ার চান্স বেশি। এছাড়াও ডাঃ গোলাম মোহাম্মদ ভূঞা শিশুদের অটিজমে আক্রান্ত হওয়ার পিছনে এই রেডিয়েশনকেই দায়ী করেছেন অনেকাংশে।

তাছাড়া শিল্প কলকারখানাগুলো থেকে যে পরিমাণ কার্বন ডাই অক্সাইড আর মিথেনের মত গ্রীন হাউস গ্যাসগুলো প্রতিনিয়ত নির্গত হচ্ছে, তা থেকে তো বিজ্ঞানীরা অনেকটা নিশ্চিতভাবে এটাই ভবিষ্যতবাণী করছে যে, এভাবে চলতে থাকলে আগামী পঞ্চাশ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের মত সমুদ্র এর উপকূলবর্তী দেশগুলোর ২৫ শতাংশ সমুদ্রের পানিতে তলিয়ে যাবার ঘোর আশংকা রয়েছে। গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর কারণে শুধু সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতাই বাড়ছে না, সাথে সাথে আমরা এমন সব নতুন নতুন রোগ জীবাণুর খোজ পাচ্ছি যা হয়তো আমাদের পুরো মানবসভ্যতাকেও কয়েক বছরের মধ্যে ধ্বংস করে দিতে সক্ষম।

কি, অবাক হচ্ছেন? হ্যাঁ, অবাক হবার মতই বিষয়। তবে শুনুন, আমি নিজে থেকে এসব বলছি না। বিজ্ঞানীরা ইতোমধ্যে আটলান্টিক সাগরে এমন এক ভয়ঙ্কর ব্যাকটেরিয়া আবিষ্কার করেছে, যার বৈশিষ্ট্য অন্য সাধারণ এক কোষী প্রাণীদের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। এর কারণ হিসেবে গ্লোবাল ওয়ার্মিং কেই দায়ী বলে মনে করছেন সবাই।

পারমাণবিক শক্তি আমাদের জন্য হুমকি নয় তো?

বর্তমানে তো আমেরিকা, রাশিয়া আর কোরিয়ার মত দেশগুলো যেন পারমাণবিক শক্তি বৃদ্ধিকেই তাদের মূল লক্ষ্য হিসেবে বেছে নিয়েছে। উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর মাঝে এখন তো এটাই প্রতিযোগিতা যে পারমাণবিক অস্ত্রের দিক দিয়ে কে কত বেশি শক্তিশালী হতে পারে। মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে ইরানের কথাও না বললেই নয়। যাই হোক, একটি কথা হয়তো আমরা সবাই জানি যে, রাশিয়া কিংবা আমেরিকা যদি তাদের সর্বনিম্ন পাওয়ারেরও একটি নিউক্লিয়ার বোমা বিস্ফোরণ করে, তাহলে পৃথিবীর ২০ শতাংশ হয়তো খুজেই পাওয়া যাবে না।

ইতিহাসে আমরা দেখেছি, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের হিরোশিমা আর নাগাসাকিতে কি ভয়ঙ্করভাবেই না নিউক্লিয়ার বোমা ফেলা হয়েছিল। আর যার প্রভাবে এখনো সেখানকার মাটিতে না হয় ভালো ফসল, না জন্ম নিচ্ছে সুস্থ সবল শিশু। বেশিরভাগ বিকলাংগ আর প্রতিবন্ধী। কারণ বোমার যে নিউক্লিয়ার রেডিয়েশন, তা এখনও শেষ হয়নি।

তবে বর্তমান সময়ে এমন হামলা হবার আশংকা খুবই কম। কিন্তু নিশ্চিতভাবে কয়জন বলতে পারবে যে, ভবিষ্যতেও এমনটাই বিরাজমান থাকবে। ইদানিং যেভাবে মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর উপর অত্যাচার নির্যাতন চালানো হচ্ছে তা থেকে সহজেই আন্দাজ করা যায়, ভবিষ্যৎ হয়তো আমাদের জন্য কোন বড় এক অভিশাপ নিয়ে অপেক্ষা করছে।

উপরের উল্লিখিত সবগুলো প্রযুক্তিগত কারণ সম্মিলিতভাবে আমাদের মানব জাতিকে দিন দিন এক অজানা অনামিশার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তবে কি বলবেন, প্রযুক্তি আমাদের কোন কাজে আসে না? না, এটাও মনে রাখা জরুরি যে, প্রযুক্তির মূল উদ্দ্যেশ্যই হলো মানবজাতির মঙ্গলসাধন করা। কিন্তু আমরা এই প্রযুক্তির অপব্যবহারের ফলেই ধীরে ধীরে আমাদের ভবিষ্যতকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছি। তবে এর থেকে বাঁচার কি কোন উপায় নেই? অবশ্যই আছে। আর তা হলো আমাদের একটুখানি সচেতনতা।

তাছারা এরকম অনেক প্রযুক্তি রয়েছে যা মানবসভ্যতার জন্য অনেক ভয়াভহ। আমরা যদি এই সব প্রযুক্তির সীমিত ব্যবহার করি, এবং অধিক নির্ভরশীলতার ফলে আসক্তি যেন না হয়ে যায় সেদিকে খেয়াল রাখি, তবে হয়তো আমরা এর সঠিক ব্যবহারের ফলে প্রযুক্তির মুখ্য উদ্দেশ্য পালনে সার্থক হবো। শুধু নিজের কথা বিবেচনা করে অযাযিতভাবে প্রযুক্তির ব্যবহার না করি, আমাদের ভবিষ্যৎ পৃথিবীকে ধ্বংসের মুখ থেকে রক্ষা করি।

You May Also Like

About the Author: মোঃ আনছের আলী

ছোটবেলা থেকেই আকৃষ্ট প্রযুক্তির উপর। ২ জি"র আমল থেকে জাভা বাটন ফোন থেকে ইন্টারনেটে কনটেন্ট ব্রাউজিং শুরু। প্রযুক্তি যতটা আমাকে কাছে টেনে নিয়েছে। হয়তো অন্য কিছু আমাকে এতটা কাছে নিতে পারেনি। ভালোলাগে কঠিন জিনিসের সহজ ব্যাখ্যা করতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!