Categories
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা

হাইব্রিড টমেটো চাষে সফল অপূর্ব-লিপিকা দম্পতি!


হাইব্রিড টমেটো চাষে সফল অপূর্ব-লিপিকা দম্পতি!

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার অপূর্ব বিশ্বাস ও তার স্ত্রী লিপিকা বিশ্বাস ঘেরের আইলে টমেটো চাষে সফল হয়েছেন। টমেটো চাষে এই দম্পতির সাফল্যে এলাকায় বেশ সাড়া পড়ে যায়। হাইব্রিড জাতের টমেটোর বাম্পার ফলনও হয়েছে। ইতোমধ্যে ১ লাখ টাকার টমেটো বিক্রি করেছেন। আরো ৩ লাখ টাকার টমেটো বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন এই দম্পতি।

জানা যায়, অপূর্ব বিশ্বাস ও তার স্ত্রী লিপিকা বিশ্বাস গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা। তারা তাদের ৩ একরের ঘেরের আইলে হাইব্রিড বিউটি ও বিপুল প্লাস জাতের ৪ হাজার ২০০ টমেটো গাছ রোপণ করেছেন। তার মধ্যে আগাম বিউটি জাতের ২ হাজার ১০০ গাছ থেকে প্রায় ১ লাখ টাকার টমেটো বিক্রি করেছেন। আর বিপুল প্লাস জাতের ২ হাজার ১০০ টমোটো গাছে ফুল ও ফল ধরেছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সেগুলোও তুলে বাজারজাত করতে পারবেন। টমেটোর বাম্পার ফলনের পাশাপাশি ভালো দাম পেয়ে হাসি ফুটেছে অপূর্ব- লিপিকা দম্পতির মুখে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সারি ভাবে লাগানো টমেটো গাছ গুলো বাঁশ দিয়ে দাড় করানো। প্রায় প্রতিটি গাছেই টমেটো ধরেছে। অপূর্ব বিশ্বাস ও তার স্ত্রী লিপিকা বিশ্বাস দিন-রাত টমেটো গাছের পরিচর্যা করছেন। প্রতিটি গাছের প্রতি তাদের সঠিক পরিচর্যার কারণেই বাম্পার ফলন হয়েছে।

সফল কৃষক অপূর্ব বিশ্বাস বলেন, আমি ৩ একর ঘেরের আইলে হাইব্রিড বিউটি ও বিপুল প্লাস জাতের ৪ হাজার ২০০ টমেটোর চারা লাগিয়েছি। টমেটো চাষে আমার ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। গত মাসে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছি। এখন ৫৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি। এ পর্যন্ত ১ লাখ ১৫ হাজার টাকার টমেটো বিক্রি করেছি। আশা করছি আগামী ৩ মাসে আরো ৩ লাখ টাকার টমেটো বিক্রি করতে পারব।

অপূর্ব বিশ্বাসের স্ত্রী লিপিকা হালদার বলেন, আমাদের সংসারে আগে অনেক অভাব অনটন ছিল। আমাদের ৩ একর জমিতে ঘের করি। যেখানে বর্ষাকালে মাছ চাষ করি। আর শুকনোর সময় বোরো ধানের আবাদ করি। আমরা ২০০৮ সাল থেকে ঘেরের আইলে টমেটো চাষ শুরু করি। টমেটো ছাড়াও আমরা ঘেরের আইলে করলা, শশা, লাউ, কুমড়াসহ বিভিন্ন শাক-সবজির চাষাবাদ করি। টমেটোর ভালো ফলন হয়েছে। টমেটো বিক্রি করে আমরা লাভবান হচ্ছি। আমাদেরকে টমেটো চাষ করতে দেখে অনেকেই টমেটো চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

সদর উপজেলার রঘুনাথপুর ইউনিয়ন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা প্রদীপ হালদার বলেন, রঘুনাথপুর গ্রামের ওই দম্পতির আর্থিক অবস্থা ভলো ছিলনা। ঘেরের আইলে টমেটো চাষ করে করে তাদের ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন। তাদের চাষকৃত প্রতিটি গাছে প্রায় ৫ কেজি করে টমেটোর ফলন পাবেন। এই হিসেবে তারা প্রায় ২১ মেট্রিক টন টমেটোর ফলন পাবেন। কম দামে বিক্রি করলেও প্রায় ৪-৫ লাখ টাকার টমেটো বিক্রি করতে পারবেন।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাফরোজা আক্তার বলেন, অপূর্ব বিশ্বাস ও তার স্ত্রী লিপিকা বিশ্বাস তাদের ঘেরের আইলে হাইব্রিড জাতের টমেটো চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন। এখন শীতকাল শুরু হতে চললো। তাই বাজারে টমেটোর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তারা তাদের গাছে উৎপাদিত টমেটো বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন।



Source link