সার্ভার কি? সার্ভার কিভাবে কাজ করে?

সার্ভার কি? ব্রাউজার ওপেন করে “google.com” লিখে এন্টার প্রেস করলেন আর কিছু সেকেন্ডের ব্যবধানেই আপনি পৌঁছে গেলেন আমাদের সুপরিচিত প্রিয় গুগলের হোম পেজে। কিন্তু কাজটা কি আসলেই এত সহজে হয়েছে? উহু হয় নি, বরং আপনার টাইপ করা থেকে হোমপেজ শো করানো অবধি বেশ অনেকগুলা স্টেপ অলরেডি কমপ্লিট হয়েছে। ক্লায়েন্ট থেকে সার্ভার কে রিকুয়েস্ট দেয়া এবং সেটার রেসপন্স দেয়ার মতো কাজ হয়ে গেছে এরই মধ্যে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এই সার্ভার জিনিসটা আবার কি? কি কাজে লাগে? এসব প্রশ্নের সকল উত্তর জানতে পারবেন সার্ভার নিয়ে বিশদ আলোচনায়।

ওয়েবসাইট ভিজিট

ওয়েবসাইট ভিজিট করতে গেলে বেশ কিছু স্টেপ ফলো করা হয়। প্রথমত আপনি যখন ব্রাউজারে টাইপ করেছেন তখন ব্রাউজার সেই এড্রেস অনুসারে অর্থাৎ সেই এড্রেস এর রেসপেক্টে যে আইপি আছে সেখানে পয়েন্ট করে দিয়েছে। এবং ঐ ডোমেইন এর যে সার্ভার সেখানে গিয়ে রিকুয়েস্ট করেছে যে আমরা হোমপেজ দেখতে চাই। যদি আপনি mail.google.com লিখতেন তাহলে আবার হোমপেজ এর রিকুয়েস্ট না গিয়ে বলত, “সার্ভার ভাই আমাকে আপনার ডোমেইন এর mail এর ডেটা দেন”।

সার্ভার ও আবার খুব অনুগত মানুষ সে একদম ভালো মানুষের মতো সেই ডেটা তার ফ্রন্টেন্ড ক্লায়েন্ট কে দিয়ে দেবে এবং ব্রাউজার সেই চিত্র আপনার সামনে প্রকাশ করবে। এই হচ্ছে মূলত স্টেপগুলো যার মাধ্যমে আপনি কোন এড্রেসে গেলে সেই এড্রেসে ঢুকতে পারেন।

এখন এখানে আপনি বা নির্দিষ্ট করে বললে আপনার কম্পিউটার হচ্ছে ক্লায়েন্ট। আর যেখান থেকে ডেটা নিয়ে আসছে সে হচ্ছে সার্ভার। বুঝলেন না কি বলছি? আসুন বিস্তারিত দেখি।

কম্পিউটার নেটওয়ার্ক কি?

সার্ভার সম্বন্ধে জানার পুর্বশর্ত হচ্ছে আগে নেটওয়ার্কিং বোঝা। আপনি চিন্তা করুন শেয়ার ইট দিয়ে আপনি একটা ফাইল দিবেন এখন আপনার বন্ধু আগে থেকেই রিসিভ করার জন্য বসে আছে আর যেই আপনি সেন্ড করবেন ফাইল টা অমনি সে পেয়ে যাবে। এই যে শেয়ারইট এর মাধ্যমে আপনি এবং আপনার বন্ধুর মধ্যে যে সম্পর্ক হল সেটা হচ্ছে একটা নেটওয়ার্ক। আবার চিন্তা করুন আপনি এবং আপনার ৫ জন বন্ধু “Mini Militia” গেম খেলছেন। সেক্ষেত্রে আপনি যেহেতু দেখতে সুন্দর তাই আপনি আপনার মোবাইল থেকে হটস্পট অন করে রেখেছেন এবং আপনার বন্ধুরা সেই হটস্পট এর সঙ্গে ওয়াইফাই দিয়ে কানেক্ট করে গেম খেলছে।

এখানে এই যে আপনি এবং আপনার বন্ধুরা মিলে একটা নেটয়ার্ক তৈরি করলেন। আমাদের ইন্টারনেট ও কিন্তু এরকম ই একটা নেটয়ার্ক। তবে ভিন্ন হচ্ছে আপনি আর আপনার ৫ জন বন্ধু নিয়ে এখানে নেটয়ার্ক করছেন। আর ইন্টারনেটে কোটি কোটি ডিভাইস যুক্ত হয়ে নেটওয়ার্ক করছে। যেহেতু এখন আমরা সার্ভার সম্বন্ধে জানবো তাই এটুকুই যথেষ্ট।

ক্লায়েন্ট কি?

ঐ যে আপনার নেটয়ার্ক এ আপনি যাদের ফাইল সার্ভ করছেন তারা হচ্ছে ক্লায়েন্ট। সোজা করে বললে যারা সার্ভার কে রিকুয়েস্ট করে কোন কাজ করিয়ে নেই তারাই হচ্ছে ক্লায়েন্ট। ইন্টারনেট এর ক্ষেত্রে আমাদের কম্পিউটার বা মোবাইল গুলো হচ্ছে একেকটা ক্লায়েন্ট।

সার্ভার কি?

আসুন এবার দেখি সার্ভার কি, সার্ভারের অর্থ কি ইত্যাদি ইত্যাদি। প্রথমত সিম্পল কথা হচ্ছে সার্ভার হচ্ছে একটা কম্পিউটার যেটা সবসময় চালু থাকে। এবং আপনার ক্লায়েন্ট কম্পিউটার যখন ব্রাউজারের মাধ্যমে সার্ভার কে রিকুয়েস্ট করে ডেটার জন্য তখন সে আপনাকে ডেটা দিয়ে দেবে। এই টাই হচ্ছে সার্ভার। আরো সহজ করে বুঝতে গেলে চলুন দেখে নেই সার্ভারের কাজ কি।

সার্ভার কি কাজে লাগে?

সার্ভারের মুল কাজ শুধু ডেটা রিকুয়েস্ট অনুসারে ডেটা সেন্ড করা বা রেসপন্স দেয়া। এখন ব্যবহার গত দিক দিয়ে সার্ভার বিভিন্ন কাজে লাগে যেমন:

আপনি কোনো ওয়েবসাইট বানাবেন? সেটা হোস্ট করতে হবে একটা হোস্টিং সাইটের মধ্যে। এখন এই হোস্টিং সাইট ও কিন্তু একটা সার্ভার। কিভাবে? সেটা বিস্তারিত দেখব এই আর্টিকেলের “সার্ভার হোস্টিং” সেকশনে।

কাউকে ইমেইল করবেন সেক্ষেত্রেও একটা ইমেইল সার্ভার রয়েছে। এটা নিয়েও বিস্তারিত জানব আমাদের “ইমেইল সার্ভার” অংশে। বিশেষকরে, DNS, FTP ইত্যাদি নানাধরনের কাজেই সার্ভার ব্যবহৃত হয়।

সহজ করে বলতে গেলে যেখানেই নেটওয়ার্ক আছে সেখানেই সার্ভারের উপস্থিতি। তবে সব সার্ভারের কাজ মূলত একটাই সেটা হচ্ছে ডেটা রিকুয়েস্ট গ্রহণ করে সেটার রেসপন্স দেওয়া।

আগেই বলেছি সার্ভার গুলো সব সময় ওপেন বা চালু থাকে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে,

সার্ভার কেন সবসময় চালু থাকে?

সার্ভার সব সময় চালু থাকার কারণ খুব সহজ। চিন্তা করুন আপনি হয়তো রাত ২ টার সময় ফেসবুকে ঢুকবেন তখন যদি ফেসবুক সার্ভার অফ রাখে তাহলে তো আর আপনি ঢুকতে পারবেন না। কোন সময় কে সার্ভারের রিকুয়েস্ট পাঠাবে তার তো আর ঠিক ঠিকানা নেই সেক্ষেত্রে বাধ্য হয়েই বলা যায় সার্ভার সবসময় ওপেন রাখা হয়। তবে কিছু কিছু সার্ভার এর ম্যানেজমেন্ট টিম আবার খরচ কমাতে ( বিদ্যুৎ খরচ সহ আনুষাঙ্গিক খরচ ) সবসময় অন রাখেনা।

তারা যেটা করে সেটা হচ্ছে যদি কখনো সার্ভারে দেখা যায় বেশ কয়েকঘন্টা ধরে কোন রিকুয়েস্ট নেই অর্থাৎ সার্ভার অকাজে বসে আছে তখন সেটা অটোমেটিক অফ হয়ে যায়। আবার যখন কোন ক্লায়েন্ট রিকুয়েস্ট পাঠায় তখন সেই রিকুয়েস্ট অনুসারে সার্ভার চালু হয় এবং এর পরে ডেটা রেসপন্স দেয়। তবে সেক্ষেত্রে ক্লায়েন্ট এর কাছে ব্যাপারটা বিরক্তিকর হয় কারণ সময় বেশি লাগে। তাই এধরনের সার্ভিস খুব কমই দেয়া হয়।

এখন সার্ভার নিয়ে অনেক তো জানা হল কিন্তু দুনিয়ায় সার্ভারের অভাব নেই। দেখে আসি চলুন কি কি ধরনের সার্ভার আছে এই জগতে।

অ্যাপ্লিকেশন সার্ভার

আপনি হয়ত পিএইচপির কথা শুনেছেন। এ ধরনের প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ খুব সহজেই সার্ভারে রান করানো যায়। কেন রান করাবো? আরে সাইট এ যদি সার্ভার ই না থাকে তাহলে About, Contact এর লিংকে গেলে যে আলাদা আলাদা পেজ এ পাঠানো হবে সেটা কে ঠিক করবে?

আচ্ছা যেটা বলতে ছিলাম, পিএইচপির জন্য ডাইরেক্ট সার্ভার ই যথেষ্ট। কিন্তু বেশ কিছু প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ আছে যেগুলো সার্ভার এ সাধারণ ভাবে রান করা যায় না। ওগুলোর জন্য লাগে স্পেশাল সার্ভার যাকে ডাকা হয়, “অ্যাপ্লিকেশন সার্ভার”। পাইথন, পিএইচপি, জাভা, সি# ইত্যাদি অনেক প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ এর ক্ষেত্রেই এপ্লিকেশন সার্ভার কাজে লাগে। এরা মূলত ওয়েব বেজড অ্যাপ্লিকেশন গুলো রান করে।

এখন কথা হচ্ছে, এধরনের সার্ভারের সুবিধা কি তাইতো? উত্তর হচ্ছে এধরনের সার্ভার ম্যানেজ করা থেকে এর সিকিউরিটি সবকিছু কয়েকগুণ সহজ সাধারণ সার্ভারের তুলনায়। একারণেই মূলত এধরনের সার্ভারের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। আপনি এরকম সার্ভিস ব্যবহার করতে চাইলে Digital Ocean, Python Anywhere, Heroku বা AWS ব্যবহার করতে পারেন। এগুলো বেশ জনপ্রিয় সার্ভিস।

ক্লাউড সার্ভার

ক্লাউড নাম শুনেন নাই এমন মানুষ বোধহয় আর এখন নেই। সবাই ক্লাউড সার্ভার নাম শুনে শুনে অভ্যস্ত। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এই ক্লাউড সার্ভার কি? আচ্ছা যায় হোক আগে একটা সাধারণের সার্ভারের সমস্যা দেখি। মনে করুন আপনি ৫ জিবির একটা ফাইল ডাউনলোড করবেন এবং যেখান থেকে ডাউনলোড করবেন সেই সার্ভার আছে ইংল্যান্ড এ। এখন ইংল্যান্ড থেকে তো সাবমেরিন ক্যাবল এর মাধ্যমে আপনার ঘর অবধি বা ISP অবধি ইন্টারনেট পৌঁছেছে এর পরেই না আপনি ব্যবহার করছেন। তাহলে ঐ ৫ জিবির ফাইল ডাউনলোড করতে গেলে আপনাকে ইংল্যান্ড থেকে বাংলাদেশে ডেটা ট্রান্সফারের প্রসেস এর মধ্যে দিয়ে যেতে হবে।

বুঝতেই পারছেন এক্ষেত্রে ডেটা ট্রান্সফারের স্পিড কমে যাবে। ঠিক এই সমস্যা সমাধান করতেই এসেছে ক্লাউড সার্ভার। মূলত এখানে আপনি অনেকগুলো রিমোট বা ছোট ছোট সার্ভার বিভিন্ন জায়গায় দেখেতে পাবেন। আপনি যখন একটা ফাইল আপলোড বা ডাউনলোড করবেন তখন সেটা আপনার নিকটস্থ সার্ভারের কাছেই যাবে অর্থাৎ ট্রানফার টাইম অনেক কমে যাবে। এছাড়া গুররত্তপুর্ন ফাইল সহজেই ক্লাউডে রাখা সম্ভব। যেমন আপনি গুগলের ড্রাইভ, মাইক্রোসফট এর ওয়ান ড্রাইভ, ড্রপবক্স বা এমাজন এর AWS ব্যবহার করেন। এগুলো সব ই ক্লাউড সার্ভার।

ডেটাবেজ সার্ভার

আপনি নিশ্চয় ডেটাবেজ চিনেন কারণ আজকের দুনিয়ায় ডেটাবেজ খুব সহজলভ্য। যদি না চিনেন তাহলে ডেটাবেজ হচ্ছে সিম্পল একটা এক্সেল শিটের মতো যেখানে অনেক অনেক কলাম এবং রো আছে। এবং সেখানে ডেটা স্টোর করে রাখা যায় এবং নানা রকম অপারেশন করা সম্ভব। যেমন সার্চ করা, সর্ট করা ইত্যাদি ইত্যাদি। এখন এই ডেটাবেজ যদি আপনি আপনার কম্পিউটারে রেখে দেন তাহলে কিন্তু অন্য কেউ আর ব্যবহার করতে পারছেনা। সেক্ষেত্রে যদি সবাইকে ব্যবহার করতে দিতে চান তাহলে স্পেশাল একটা সার্ভার লাগবে।

সেখানে আপনি আপনার ডেটাবেজ স্টোর করে রাখবেন এবং প্রয়োজনে যে কেউ সেই ডেটাবেজ এক্সেস করবে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সরাসরি কোন ক্লায়েন্ট ডেটাবেজ এক্সেস না করে বরং অন্য কোন সার্ভার সেই ডেটাবেজ এক্সেস করে ডেটা নিয়ে কাজ করে। যেমন আপনি ফেসবুকে সাইন আপ করলে আপনার ইমেইল এবং পাসওয়ার্ড ডেটাবেজে স্টোর হয়ে যাবে। পরে লগইন করার সময় আপনার দেয়া ইমেইল এবং পাসওয়ার্ড ডেটাবেজের ইমেইল এবং পাসওয়ার্ড এর সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। এধরনের অনেক কাজ ই করা হয় ডেটাবেজ সার্ভারের মাধ্যমে। জনপ্রিয় ডেটাবেজ সার্ভার হচ্ছে MongoDB, MariaDB, phpMyAdmin ইত্যাদি ইত্যাদি।

ডেডিকেটেড সার্ভার

আপনি নিশ্চয় অনেক সময় দেখেছেন আমাদের নিজেদের সাইট তৈরি করতে গেলে একটা সার্ভার কেনা লাগে যেটাকে অনেকেই হোস্টিং হিসেবে জানে। এবং ডেডিকেটেড সার্ভার সেরকমই তবে ভিন্নতা আছে। আপনি যখন ১০০ টাকা দিয়ে ১ জিবি সাইজের সার্ভার কিনে নেন সেক্ষেত্রে আপনি একটা শেয়ার্ড সার্ভার ব্যবহার করছেন। শেয়ার্ড সার্ভারের বেলায় মূলত একটা সার্ভার অনেকে মিলে ব্যবহার করে।

হয়তো ১০০ জিবির একটা সার্ভার ১০ জন মিলে ১০ জিবি করে ব্যবহার করছে। সেক্ষেত্রে আপনি শুধুমাত্র আপনার অংশ এক্সেস করতে পারবেন এবং ডেটা রাখা আর ডাউনলোড ছাড়া কিছুই পারবেন না। তবে ডেডিকেটেড সার্ভারের পুরো একটা সার্ভার আপনাকে দিয়ে দেয়া হবে যেখানে আর কেউ এক্সেস পাবেনা। সেক্ষেত্রে আপনি আপনার সার্ভারে ডেটা রাখা ছাড়াও ফায়ারওয়াল তৈরি, অপারেটিং সিস্টেম আপডেট করতে পারবেন।

মেইল সার্ভার

মেইল সার্ভার হচ্ছে ডিজিটাল পোস্ট অফিস। বুঝে ফেলেছেন? তবুও চলুন আরেকটু দেখি, আপনি আপনার ক্লায়েন্ট মানে মেইল ক্লায়েন্ট যেমন জিমেইল বা ইয়াহু বা অন্য কোন মেইল সার্ভার দিয়ে একটা মেইল যখন সেন্ড করেন কোন এড্রেসে তখন সেই মেইল প্রথমে যায় মেইল সার্ভার এ।

এবং তখন যে এড্রেসে পাঠাচ্ছেন সেই এড্রেসে আপনার মেইল সার্ভার পাঠিয়ে দেয়। এটাই মূলত মেইল সার্ভারের কাজ। এখন আপনার মেইল এড্রেস সহ অন্যান্য ইনফরমেশন আবার মেইল সার্ভার কে কিন্তু ইমেইল ক্লায়েন্ট পাঠাবে না বরং কোন একটা ইমেইল প্রোভাইডার পাঠাবে। যেমন SMTP বা POP3 ইত্যাদি।

প্রিন্ট সার্ভার

মনে করুন আপনার অফিসে প্রিন্টার আছে একটা। এবং সেটা ব্যবহার করে অফিসের ১০০ জন মানুষ। যেহেতু অফিসের কাজ রেখে বারবার প্রিন্টারের কাছে গিয়ে ফাইল নিয়ে আরেক্টা কম্পিউটার এ দিয়ে সেখান থেকে প্রিন্ট করা ঝামেলা তাই সহজ বুদ্ধি হচ্ছে প্রিন্টারকে একটা নেটওয়ার্ক এর সঙ্গে যুক্ত করে দেয়া। অর্থাৎ আপনাদের সবার কম্পিউটার এবং ঐ প্রিন্টার একই নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকবে।

এখন যখন আপনি আপনার কম্পিউটার থেকে প্রিন্ট করবেন তখন সেই ফাইল প্রিন্ট হবে ঐ প্রিন্টার দিয়ে আবার আপনার আরেক কলিগের ফাইল ও সেম ভাবে প্রিন্ট হবে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে যদি একসময়ে দুজনই প্রিন্ট করতে দেয় তাহলে? এই প্রব্লেম সল্ভ এর জন্য আছে প্রিন্ট সার্ভার। যে সব প্রিন্ট রিকুয়েস্ট সংগ্রহ করে রেখে আগে আসলে আগে পাবেন ভিত্তিতে প্রিন্ট করে দেয়। এই হচ্ছে মূলত প্রিন্ট সার্ভারের কাজ।

প্রক্সি সার্ভার

প্রক্সি সার্ভার মূলত আপনার ডিভাইসের নির্দিষ্ট একটা সার্ভার যেটা লোকাল নেটওয়ার্ক এবং বাইরের নেটয়ার্ক কে আলাদা করে। অর্থাৎ আপনি যখন একটা সাইটে ভিজিট করতে যাবেন তখন প্রক্সি সার্ভার সেটা ক্যাশে করে ওর কাছে রেখে দিবে এবং পরে যখন আপনি আবার ভিজিট করবেন তখন সে ক্যাশে থেকে আপনাকে ডেটা দেখাবে যার ফলে স্পিড যেমন বাড়বে আপনার ব্যান্ডউইথ ও কম খরচ হবে।

তবে যদি এমন সাইট হয় যা আগে কখনো ভিজিট করা হয়নি তবে সেটা নতুন করে ক্যাশে করে। এছাড়া প্রক্সি সার্ভার দিয়ে আপনি আপনার আইপি বাদ দিয়ে অন্য আইপির মাধ্যমে কোন সাইট ভিজিট করতে পারেন যার ফলে ব্লকড সাইট গুলো সহজেই ভিজিট করা সম্ভব। সাধারণত রাউটার কিংবা আপনার ডিভাইসে সহজেই প্রক্সি সেট করা যায়।

ওয়েব সার্ভার

ওয়েব সার্ভার মূলত প্রতি সাইটের জন্য একটি বা এর বেশিও থাকতে পারে। এই সার্ভারের কাজ হচ্ছে হোস্টিং সার্ভার থেকে পাওয়া রিকুয়েস্ট গ্রহণ করে সেই অনুযায়ী রেসপন্স দেয়া। ধরুন আপনি চাইলেন google.com/bangladesh এই ঠিকানায় যাবেন এখন এই ঠিকানা তো আর গুগলের ওয়েব সার্ভারে নেই। তাই যখন সে এই রিকুয়েস্ট পাবে তখন একটা ইরোর রেসপন্স আপনাকে পাঠিয়ে দেবে। ওয়েব সার্ভার একটা ওয়েব সাইটের ব্যাকেন্ড সব কাজ ই করে থাকে। যেমন লগইন, সাইন আপ, কোন পেজে গেলে কি হবে, ইত্যাদি ইত্যাদি। বেশ কিছু জনপ্রিয় ওয়েব সার্ভার হচ্ছে Apache, Nginx, Tomcat ইত্যাদি ইত্যাদি।

ফাইল সার্ভার

এটা খুব সিম্পল একটা সার্ভার। এর কাজ হচ্ছে রিকুয়েস্ট অনুসারে আপনাকে শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় ফাইল সার্ভ করা। এর বেশি কিছু এই সার্ভার দিয়ে সম্ভব না। এবং এখানে আপনি আপনার ফাইল গুলো স্টোর করে রাখতে পারবেন।

FTP সার্ভার

এফটিপি সার্ভার মূলত একটা ফাইল এক্সপ্লোরার এর মতো। এখানে আপনি কোন ওয়েব পেজ বা এরকম দেখার পরিবর্তে দেখতে পাবেন ফাইল স্ট্রাকচার। ফোল্ডার ওপেন করার মত করে আপনি সেগুলো ওপেন করতে পারবেন আর ডেটার এক্সেস করতে পারবেন। এফটিপি সার্ভার এর পুর্নরুপ হচ্ছে File Transfer Protocol । এখানে প্রধান কাজ হচ্ছে ফাইল সেন্ড এবং রিসিভ করা। FTP সার্ভার ক্লায়েন্ট এবং ফাইল সার্ভার এ আলাদা রেখে কাজ করে বলে এর স্পিড হয় অনেক বেশি। দ্রুত ওয়েবসাইটে ইমেজ লোড কিংবা ভিডিও লোড এর জন্য আলাদা FTP সার্ভার ব্যবহার হয়ে থাকে।

সার্ভার কোথায় রাখা হয়?

ইন্টারনেট ঘাটাঘাটি করলে আপনি হয়ত অনেক ধরনের ডেটা সেন্টার দেখতে পারবেন যেমন গুগলের, ফেসবুকের ইত্যাদি। ওখানে কাচের সুরক্ষিত রুম বা অনেক সিকিউর জায়গার মধ্যে সার্ভার গুলো রাখা হয়। এবং সেগুলো মূলত দেখতে মনে হয় র‍্যাকের মতো। একদম সিকিউরিটির লোকজন ছাড়া ওখানে যাওয়ার পারমিশন কারো নেই।

আমার কম্পিউটার কি সার্ভার হতে পারে?

হ্যাঁ পারে। আপনার ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ যেটাই আছে সেটাই চাইলে আপনি সার্ভার হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন। যেমন আপনি যদি চান আপনার কম্পিউটার কে একটা FTP সার্ভার বানাবেন যেটা চাইলেই আপনার অফিসের সবাই ব্যবহার করতে পারবে তাহলে সবচেয়ে সহজ বুদ্ধি হচ্ছে একটা FTP সফটওয়ার ইন্সটল করে ফেলা। এবং একটু খোজ করলেই এই বিষয়ে অনেক টিউটরিয়াল পেয়ে যাবেন।

তবে যদি একচুয়াল সার্ভার বানাতে চান তাহলে অনেক কিছুই মাথায় রাখা লাগবে যেমন:

  1. সবসময় কম্পিউটার অন রাখতে হবে ( বুঝতেই পারছেন কি সাঙ্ঘাতিক ব্যাপার )
  2. আপনার কম্পিউটারের পর্যাপ্ত প্রোসেসিং পাওয়ার থাকতে হবে।
  3. যেহেতু সার্ভারে অনেক ধরনের সিকিউরিটি এটাক হয় তাই সেগুলো থেকে বাচতে ভালো মানের ফায়ারওয়াল ও লাগবে।

এধরনের সব কিছু ভেবে চিন্তে মনে হয়না নিজের কম্পিউটার কে সার্ভার বানানো ভালো বুদ্ধি।

পরিশেষে

সার্ভার হচ্ছে সিম্পল কম্পিউটার তবে এর অনেক ধরনের বিশেষ বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এবং সার্ভার অনেক ধরনের কাজেই লাগে সেটা ইমেল পাঠানো থেকে ফাইল পাঠানো অবধি। আপনি চাইলে আপনার পার্সোনাল কম্পিউটার কেও সার্ভার হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন। এবং সার্ভার সম্বন্ধে বিস্তারিত জানতে হলে নেটওয়ার্কিং সহ ক্লায়েন্ট সম্বন্ধে ধারনা থাকা প্রয়োজন। এবং আজকের আর্টিকেলে সার্ভার নিয়ে সকল প্রশ্ন এবং কনফিউশিনের উত্তর আমরা দেয়ার চেষ্টা করেছি। আশা করছি এরপর থেকে সার্ভার সম্বন্ধে আপনার আর কোন কনফিউশন থাকবে না।

আর্টিকেল টি ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করে দিন আপনার বন্ধুর সঙ্গে কারণ “জ্ঞান দান সবচেয়ে বড় দান”। আর তাছাড়া সার্ভার সম্বন্ধে আপনার আর কোন প্রশ্ন থাকলে জানিয়ে দিতে ভুলবেন না কমেন্ট বক্সে। ধন্যবাদ।

You May Also Like

About the Author: বিশদ স্টাফ

হ্যালো,আমি বিশদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!