ফ্রিল্যান্সিং কি? কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করবো বিস্তারিত আলোচনা !

ফ্রিল্যান্সিং কি? বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত একটি শব্দ হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং(Freelancing)। যার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে এ প্রজন্মের তরুণদের উপর। ফ্রিল্যান্সিং এর অর্থ হচ্ছে স্বাধীন অথবা মুক্তপেশা। যদি একটু বড় করে বলি তাহলে ফ্রিল্যান্সিং হচ্ছে নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানের অধীনে না থেকে মুক্ত অথবা স্বাধীনভাবে কাজ করা। আর এই পেশার মানুষদের বলা হয় ফ্রিল্যান্সার( Freelancer)। অন্যান্য চাকরিজীবীদের মতো এরা বেতনভুক্ত নয়। কাজ ও চুক্তির মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সাররা ইনকাম করে থাকে। এখানেও তাঁদের স্বাধীনতা রয়েছে। অধিক কাজের মাধ্যমে তাঁরা অধিক অর্থ আয় করতে পারে এবং নিজের ইচ্ছেমতো কাজের চুক্তি করতে পারে। এজন্য মুক্তমনা লোকদের কাছে ফ্রিল্যান্সিং এখন একটি আকর্ষণীয় আয়ের উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এটি একটি সুবিধাজনক পন্থা’ও বটে। আমাদের এই আধুনিক যুগে এই অধিকাংশ মুক্তপেশা গুলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়ে থাকে। ফলে ফ্রিল্যান্সার অথবা মুক্তপেশাজীবিরা ঘরে বসেই উপার্জন করতে পারেন। এ পেশার মাধ্যমে অনেকে প্রচলিত চাকুরি থেকে আরো অনেক বেশি আয় করে থাকেন, তবে আপেক্ষিক ভাবে। ইন্টারনেটভিত্তিক কাজ হওয়াতে দেশী-বিদেশী ক্লায়েন্টদের সাথে সহজেই সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। যার ফলে অনেক ছাত্র-ছাত্রী এবং অনেক চাকুরীজীবি এই পেশায় আসছেন। বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং অথবা আউটসোর্সিং হচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের তৃতীয় ক্ষেত্র। ফ্রিল্যান্সিং হচ্ছে মাল্টি বিলয়ন ডলারের একটা বিশাল বাজার। আসুন আমরা আরেকটু ভালোভাবে জেনে নেই ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে।

ফ্রিল্যান্সিং কি ?

ইমেজ ক্রেডিটঃ Gerd Altmann from Pixabay

এই প্রশ্নের জবাব পেতে একটি সুক্ষ্ম ধারণা দেওয়া যাক। ধরুন আপনার একটি কোম্পানি রয়েছে, কোম্পানির জন্য কিছু লিফলেট তৈরী করা প্রয়োজন, এখন আপনি কীভাবে করবেন? নিশ্চয়ই কোনো প্রিন্টিং কোম্পানির কাছে যাবেন অথবা তাঁদের সাথে যোগাযোগ করবেন। কিন্তু, যদি প্রশ্ন করি, কাজটি আপনি কেন করছেন না? উত্তরটি হচ্ছে আপনি কিছুই জানেন না এই বিষয়ে। যদি আপনি নিজে এগুলো করতে চান, তাহলে আপনার কি কি দরকার হতো? একজন ভালো মানের গ্রাফিক্স ডিজাইনার, একটি ছাপাখানা দরকার হতো অবশ্যই। আরো কত কিছুরই না দরকার পড়তো। এসব ঝামেলা এড়াতে চাইলে আপনি নিশ্চয়ই এই কাজ যারা করবে তাঁদেরকে দিয়ে করাবেন। তখন আপনি এমন কাউকে অথবা এমন কোনো কোম্পানি কে খুঁজবেন যারা এই কাজটি করতে পারে এবং সহজেই সেই কাজটি তাঁরা ঘরে বসেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে করে দিবে। আর এটিই হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং।

ফ্রিল্যান্সারদের চাহিদা কেমন?

বর্তমানে উন্নত দেশগুলোর কোম্পানি ফ্রিল্যান্সিং এর উপর বেশি জোর দিচ্ছে। কারণ, উন্নত দেশগুলোতে (আমেরিকা কিংবা ইউরোপ) শ্রমের মজুরী তুলনামূলক বেশি৷ কোনো কোম্পানির যদি একটি ওয়েবসাইট তৈরী বা ডিজাইন করার প্রয়োজন হয়, এজন্য যদি তাদের দেশের একজন ওয়েব ডিজাইনার নিয়োগ দেন, তবে বিপুল পরিমাণে টাকা গুনতে হয়। কিন্তু সেই কাজটি আমাদের মতো কোনো দেশের ওয়েব ডিজাইনারকে দিয়ে করিয়ে নিলে তুলনামূলক অল্প টাকায় করানো যায়। তাই বিদেশী কোম্পানি, প্রতিষ্ঠান এমনকি ব্যাক্তিগতভাবেও আমাদের দেশের ওয়েব ডিজাইনদের দিয়ে কাজ করিয়ে নেয়, এতে দুপক্ষেরই লাভ হয়। বর্তমানে ইন্টারনেটের মাধ্যমে খুব সহজেই এ কাজ করা সম্ভব। আপনি যদি একজন ওয়েব ডিজাইনার, ওয়েব ডেভেলপার, গ্রাফিক্স ডিজাইনার, আর্কিটেকচার যাই হন না কেনো ইন্টারনেটের মাধ্যমে ঘরে বসেই ফ্রিল্যান্সিং করতে পারবেন, বাহিরে যাওয়ার কোনোই প্রয়োজন নেই।

উন্নত দেশগুলোতে কাজের খরচ কমানোর জন্য ফ্রিল্যান্সারদের নিয়োগ করে থাকে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ গুলো এই সুযোগটি খুব ভালো ভাবেই কাজে লাগিয়েছে। আমরাও যদি ফ্রিল্যান্সিং এর বিশাল বাজারে সামান্য অংশ কাজে লাগাতে পারি তাহলে এটি হতে পারে আমাদের অর্থনীতি মজবুত করার শক্ত হাতিয়ার।

ফ্রিল্যান্সিং এ কাজের ক্ষেত্রগুলো কি ধরনের?

ফ্রিল্যান্সিং সাধারণত দুইভাবে করা যায় অনলাইন এবং অফলাইন। মূলত অনলাইনেই ফ্রিল্যান্সিং বেশী করা হয়ে থাকে যা আমরা একটু আগেই আলোচনা করেছি। ফ্রিল্যান্সিং পারসন টু পারসন এর জায়গাতে না থেকে বিশাল মার্কেট রূপ নিয়েছে। এক্ষেত্রে ক্লায়েন্ট সরাসরি কোনো কাজ দেন না। ফ্রিল্যান্সার এবং ক্লায়েন্টদের মাঝে সম্পর্ক করে দেয় যে ওয়েবসাইট টি তাঁকে মার্কেটপ্লেস বলা হয়। মার্কেটপ্লেসগুলোতে ক্লায়েন্টরা তাঁদের কাজ গুলো জমা দেন এবং কোন ক্লায়েন্ট কাজ পোস্ট করার পর ফ্রিল্যান্সাররা কাজটি পাওয়ার জন্য আবেদন করেন, এই আবেদন করাকে বিট বলা হয়। পোস্টকৃত কাজ গুলোতে আবেদন করার পর ক্লায়েন্ট সেগুলোকে দেখে যাকে যোগ্য মনে করেন তাঁর হাতেই কাজটি হস্তান্তর করেন। আর এভাবেই একজন ফ্রিল্যান্সার কাজ পান।

আরো পড়ুনঃ  অনলাইন ইনকামঃ যেভাবে আপনিও ইউটিউব থেকে আয় করতে পারবেন

ইন্টারনেটভিত্তিক ফ্রিল্যান্সিং কাজে বিশ্বব্যপী মধ্যস্ততাকারী বিভিন্ন ওয়েবসাইট তাদের নিজেদের পরিসেবা প্রতিনিয়ত বিস্তৃত করে যাচ্ছে, ফলে প্রতিদিনই কাজের পরিধি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখন তো অনেকে মোবাইলের ব্যাকপ্যাক ডিজাইনের কাজও ফ্যিল্যান্সিং সাইটে পাওয়া যাচ্ছে, এমনকি ফেসবুকের কভার ফটো ডিজাইনের মতো ছোট কাজ করেও অর্থ উপার্জন করা যায়। মধ্যস্থতাকারী এসব ওয়েবসাইট এর মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ক্রেতা এবং ফ্রিল্যান্সার উভয়েই উপকৃত হচ্ছেন। ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট তৈরি করে নিজের কাজের বিবরণ জানিয়ে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন আপনিও। কোন কাজের জন্য উপযুক্ত মনে করলে কাজটি পেতে আবেদন করতে পারেন। ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের মধ্যে লেনদেনকৃত অর্থের একটা অনুপাত এসকল মধ্যস্থতাকারী ব্যবসায়ী তথা ওয়েবসাইটগুলো গ্রহণ করে । অনলাইনভিত্তিক কাজের এমন কয়েকটি জনপ্রিয় ওয়েবসাইটের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ফ্রিল্যান্সার ডট কম, ফাইভার, আপওয়ার্ক, গুরু ইত্যাদি।

মুক্তপেশার কাজের পরিধি অনেক বেশি। বিশ্বব্যাপী এধরনের কর্মপদ্ধতির চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে শীর্ষে থাকা কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কাজ নিয়ে নিচে আলোচনা করা হলোঃ

    • লেখালেখি ও অনুবাদ: বিজ্ঞপ্তি, ছোট গল্প, প্রাপ্তবয়স্কদের গল্প, নিবন্ধ , ওয়েবসাইট কন্টেন্ট, সংবাদ এবং এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় ভাষান্তরকরণ উল্লেখযোগ্য।
    • সাংবাদিকতা: যারা এবিষয়ে দক্ষ তারা বিভিন্ন দেশি-বিদেশি পত্রপত্রিকায় লেখালেখির, চিত্রগ্রহণের পাশাপাশি ইন্টারনেটভিত্তিক আর্টিকেল লিখে থাকেন।
    • গ্রাফিক্স ডিজাইন: ওয়েবসাইট ব্যানার, লোগো, ছবি সম্পাদনা, অ্যানিমেশন ইত্যাদি।
    • ওয়েব ডেভলপমেন্ট: ওয়েবসাইট তৈরি, ওয়েবভিত্তিক সফ্টওয়্যার তৈরি, হোস্টিং ইত্যাদি।
    • কম্পিউটার প্রোগ্রামিং: ডেস্কটপ প্রোগ্রামিং থেকে ওয়েব প্রোগ্রামিং সবই এর আওতায় পড়ে।
    • ইন্টারনেট মার্কেটিং: ইন্টারনেটভিত্তিক কার্যক্রম, যেমন ব্লগ, সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটে বিপণন।
    • গ্রাহক সেবা: দেশি-বিদেশি বিভিন্ন কোম্পানির গ্রাহককে ইমেইল, লাইভ কাস্টমার চ্যাট, টেলিফোন, ইমেইল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যে তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহায়তা করা।

সম্ভাবনা এবং বাস্তবতা

ইমেজ ক্রেডিটঃ 200 Degrees from Pixabay

ফ্রিল্যান্সিং প্রচন্ড সম্ভাবনাময় একটি খাত। এই সেক্টরকে আমরা যদি সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারি, তাহলে অনেক বেশি পরিমাণের অর্থ উপার্জন করা সম্ভব। তবে এ ক্ষেত্রে শুধু ব্যক্তিগতভাবে ফ্রিল্যান্সিং না করে কোনো ভাবে যদি প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ নেওয়া যায়। তাহলে আরো বেশি উপার্জন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আমাদের যুবসমাজের মধ্যে একটা ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে, ফ্রিল্যান্সিং কাজ করতে তেমন কিছু জানার দরকার নেই। ২ দিনের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে কম্পিউটারে ইন্টারনেট নিয়ে বসলেই ফ্রিল্যান্সিং করা যাবে, কাড়ি কাড়ি টাকা আসতে থাকবে, এটা আমাদের একটি বড় সমস্যা। আমাদের সবার আগে জানতে হবে ফ্রিল্যান্সিং কি? কোন কোন কাজের চাহিদা মার্কেটপ্লেস এর মধ্যে রয়েছে। এবং আমি কোন কাজ কতটুকু জানি এবং একটি কাজের প্রতি কতটুকো অভিজ্ঞতা থাকলে আমি মার্কেটপ্লেসে কাজ পেতে পারি। অবশ্যই এই কথা মাথায় রেখে ফ্রিল্যান্সিং করার চিন্তাভাবনা করতে হবে। একটি কাজের প্রতি দক্ষতা অর্জন করা সময় সাপেক্ষ।

কিছু ফ্রিল্যান্সারদের সফলতার গল্পই শুধু শুনি, কিন্তু এর পিছনে তাদের ব্যয়কৃত অক্লান্ত পরিশ্রম, ধৈর্য্য, সময় ও মেধা দেখি না। এতে অনেকে শুধু অন্যের সফলতা দেখে সিদ্ধান্ত নেন, ঐ বড় ভাই ওয়েব ডেভেলপমেন্ট-ডিজাইন করে মাসে লাখ লাখ টাকা আয় করে, আমিও একই কাজ শিখবো, এটা ঠিক না। তার জন্য ওয়েব ডিজাইন-ডেভলপমেন্ট সঠিক হলেও আপনার জন্যও যে সঠিক হবে তার তো কোন গ্যারান্টি নাই। একটা জিনিস ভাল না লাগলে বেশিদিন করতে ইচ্ছা করবে না। সফলতার পরিবর্তে আপনি হয়তো হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়বেন। আপনার যেই কাজটি ভালো লাগে, আপনি সেই কাজটি নির্বাচন করুন। সঠিক বিষয় নির্বাচনের পর আপনাকে সময়, মেধা, ও শ্রম দিয়ে সেই বিষয়ে দক্ষ হতে হবে। যদি দক্ষ হন, তবে মার্কেট প্লেসসহ সর্বত্র আপনার কাজের অভাব হবে না। অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশেও অনেক সফল ফ্রিল্যান্সার আছেন। যারা প্রতিনিয়ত বৈদেশিক মুদ্রা নিজে নিজেই উপার্জন করছেন।

ফ্রিল্যান্সারদের পেমেন্ট নিয়ে দূর্ভোগ !

বাংলাদেশে অনলাইন পেমেন্ট মেথড হিসেবে বর্তমানে পেইজা, নেটেলার, পেওনিয়ার, স্কিল, জুম চালু আছে। এছাড়াও আমাদের দেশের ফ্রিল্যান্সাররা ওয়্যার ট্রান্সফার সিস্টেমটিও ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু উন্নত বিশ্বে অনলাইন অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয় পেপাল। এটা যেমন অনলাইনের প্রায় সকল কাজে ব্যবহার করা যায়, তেমনি সাশ্রয়ীও। কিন্তু বাংলাদেশে পেপোল এখনো আসেনি। এই কারণে বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সারদের উপার্জিত অর্থ গ্রহণ ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে অর্থ প্রদানের জন্য পেমেন্ট মেথড নিয়ে বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হয়, ব্যয় হয় অতিরিক্ত অর্থ। সরকারিভাবে ঘোষণা দেয়া হলেও, এখনো এটা চালু করা সম্ভব হয় নি। তাই এটা যত দ্রুত চালু করা যাবে ততই এই সেক্টরের জন্য মঙ্গলজনক হবে। আর বর্তমানে আমারা যে পেমেন্ট মেথডগুলোর মাধ্যমে অর্থ লেন-দেন করি, অপ্রয়োজনে এগুলোতে একাধিক একাউন্ট খোলা বা নিয়মিত অর্থ লেনদেন না করলে এগুলোও তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে পারে। তাই আমাদের উচিৎ এগুলোর সুষ্ঠুভাবে ব্যবহার করা। আমাদের সরকার পেপাল নিয়ে খুব শীঘ্রই একটা ঘোষণা দিবেন আশা করা যায়। তাহলে সকল ফ্রিল্যান্সাররা আগামীতে আরো বেশি টাকা আয় করতে পারবেন।

আরো পড়ুনঃ  অনলাইন ইনকামঃ যেভাবে আপনিও ইউটিউব থেকে আয় করতে পারবেন

ফ্রিল্যান্সিং এর ভবিষ্যৎ কেমন?

ইমেজ ক্রেডিটঃ Image by Gerd Altmann from Pixabay

এর উত্তর এক কথা বলা যায় “উজ্জ্বল’ কেননা ফ্রিল্যান্সিং এর সম্ভাবনা দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের ইন্টারনেটভিত্তিক জগতে প্রায়শই নানান ধরণের ওয়েবসাইট বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানুষ শ’ এ শ’ এ ইন্টারনেটে নিজেদের মার্কেটিং করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ছে। আর এর ফলে দরকার পড়ছে নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী ওয়েবসাইট। কিন্তু মনে মনে স্বপ্ন বুনলেই তো হবে না। এর জন্য প্রয়োজন একজন দক্ষ ও ভালো মানের ওয়েব ডিজাইনার অথবা ওয়েব ডেভেলপার অথবা একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার। আর বিশ্বের নানান মানুষের নানান ওয়েবসাইট তৈরি করার স্বপ্নের দরুন কাজ পাচ্ছেন ফ্রিল্যান্সাররা। কিন্তু অনেকে ফ্রেশার অথবা নতুন ফ্রিল্যান্সাররা বলে থাকেন এবং ধারণা বুনে থাকেন, “এখন সব মার্কেট প্লেসে দক্ষ ফ্রিল্যান্সারদের অভাব নেই। আমার মতো নতুনদের কে কাজ দিবে?”

আসলে অনেক ক্লায়েন্ট মার্কেটপ্লেস এ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে যারা ফ্রেশারস দের নিয়ে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। আর করবেনই বা না কেনো? ফ্রেশারসদের দিয়ে তাঁরা আরো কম অর্থের বিনিময়ে কাজটিই করিয়ে থাকেন। এতে আস্তে আস্তে নতুনদেরও অভিজ্ঞতা বাড়তে থাকে এবং ক্লায়েন্টরাও লাভবান হন। আজকাল ছোট থেকে ছোট কাজটিও ক্লায়েন্টরা ফ্রিল্যান্সারদের দিয়ে করিয়ে থাকেন। পৃথিবীর সকল মানুষ সময়কে বাঁচানোর উদ্দেশ্যে থাকেন ঠিক তেমনিই ক্লায়েন্টরাও যেকোনো ডিজাইন অথবা গ্রাফিক্স এর জন্য দেশ বিদেশের ফ্রিল্যান্সারদের দ্বারা করিয়ে নিতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত ম্যাগাজিন ফোর্বেস (Forbes) এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী বর্তমানে আমেরিকার এক তৃতীয়াংশ মানুষের পেশা হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং। বর্তমানে বিশ্বের সব ফ্রিল্যন্সারেরা মিলে প্রতিদিন ৩.৮ বিলিয়ান ডলার বিশ্ব অর্থনীতিতে যোগ করছে, যেটা বছরে প্রায় ১.৭ ট্রিলিয়ন। তাহলে বোঝাই যাচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং এর ভবিষ্যৎ কেমন। অনেকের মতে ফ্রিল্যান্সিং এর ভবিষ্যৎ ভালো হলেও দিন দিন মার্কেটপ্লেসের অবস্থা খারাপ হচ্ছে। এর যথাযথ কারণ হচ্ছে আজকাল বায়াররা মার্কেটপ্লেস থেকে বের হয়ে স্বাধীন ভাবে কাজ করতে চায়। তাঁরা সরাসরি ফ্রিল্যান্সারদের সাথে যোগাযোগ করে কাজ করিয়ে নিচ্ছে। আর অনেকে কাজ না পাওয়ার কারণ হচ্ছে বায়াররা একজন ভালো মানের ফ্রিল্যান্সারের সাথেই কাজ করতে পছন্দ করে। অনেক ফ্রিল্যান্সারদের তাঁরা বিনা পরিশ্রমে অর্থ প্রদান করেন যাত তাঁরা হাতছাড়া না হয়ে যায়। অনেককে তাঁরা নিজদের প্রতিষ্ঠানে কাজ করারও প্রস্তাব পাঠান। কিন্তু সব কিছু এড়ালে দেখা যায় চেষ্টা করলে সব কিছুই অর্জন করা সম্ভব। কথায় তো আছে “চেষ্টা করলে সৃষ্টিকর্তারও সন্ধান মিলে”।

ফ্রিল্যান্সাররা শুধু আজকাল ফ্রিল্যান্সিং নিয়েই বসে থাকছে না। তাঁরা হচ্ছেন ইউটিউবে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর, বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং প্রতিষ্ঠানের ট্রেইনার, মালিক। অনেকে মোটিভেশনাল স্পিচ দিয়ে মানুষকে সঠিক পথ নির্বাচনে সাহায্য করছে। সর্বাঙ্গে বিবেচনা করলে দেখা যাচ্ছে কেউই নিজে নিজে ইনকাম করে যাচ্ছেনা, অন্যকে উৎসাহিত করতেও তাঁরা এগিয়ে যাচ্ছে।

শেষকথা:

অনেক ফ্রিল্যান্সারদের বিভিন্ন মতবাদ নিয়ে চলছে তাঁদের কাজ। কিন্তু সবাই যার যার অবস্থান থেকে সফল। আমাদের মূল উদ্দেশ্য থাকা উচিৎ পরিশ্রম করা এবং সফল হওয়া। কাজ আমরা যেটিই করি সবকিছুর ঊর্ধে আমরা সফলতাকে বেছে নেই। ফ্রিল্যান্সিং তেমনই একটা সফলতার গল্প বলে যায়। তাই অদূর ভবিষ্যৎ কে পরিশ্রমের সমেত মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়াটাই আমাদের লক্ষ্যের খাতায় যোগ করতে হবে।

You May Also Like

মোঃ আনছের আলী

About the Author: মোঃ আনছের আলী

ছোটবেলা থেকেই আকৃষ্ট প্রযুক্তির উপর। ২ জি"র আমল থেকে জাভা বাটন ফোন থেকে ইন্টারনেটে কনটেন্ট ব্রাউজিং শুরু। প্রযুক্তি যতটা আমাকে কাছে টেনে নিয়েছে। হয়তো অন্য কিছু আমাকে এতটা কাছে নিতে পারেনি। ভালোলাগে কঠিন জিনিসের সহজ ব্যাখ্যা করতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!