পাইথন কি? পাইথন কেনো এবং কিভাবে শিখবেন?

ডাটা সাইন্সটিস্ট হতে চান না মেশিন লার্নিং শিখে অ্যালেক্সা এর মতো কাউকে বানাবেন? ঠিক করতে পারছেন না তাই তো? আচ্ছা এমন যদি হতো এক প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ শিখেই এটা ঠিক করতে পারতেন!! নিশ্চয় ভালো তাই না? আজকের আর্টিকেল থেকে পাইথন কি? পাইথন দিয়ে কি কি করা যায়? পাইথন শিখে কি হবে? সকল প্রশ্নের জবাব পেয়ে যাবেন।

আপনার চিন্তা ভাবনাকে কাজে লাগিয়েই তৈরি হয়েছে, বর্তমান পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ পাইথন। ওয়েব ডেভলপমেন্ট থেকে শুরু করে মেশিন লার্নিং খুটিনাটিও আপনি পাবেন এই পাইথনে। শুধু মাত্র একটি প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ দিয়েই এত কিছু করতে পারবেন, তা ভাবাও দুষ্কর। তবে আপনি এখন এই দুষ্কর চিন্তাভাবনাই করতে পারেন। যাই হোক এত কিছু দিচ্ছে তাই বলে ভাববেন না সি কিংবা সি সার্প এর চেয়েও কঠিন কিছু। আপনি যদি একটু প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ নিয়ে ঘাটাঘাটি করে দেখে থাকেন তাহলে খুব সহজেই বুঝতে পারবেন যে পৃথিবীর সবচেয়ে সহজ প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ হলো পাইথন। আর এখন এটা রয়েছে ফাস্টেস্ট গ্রোয়িং এর তালিকায় প্রথম।

পাইথন কি?

পাইথন হলো একটি প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ। যা আপনি অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড ও স্ট্রাকচার্ড প্রোগ্রামিং এর ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারবেন। অনেকেই বলে থাকেন যে পাইথন বা এই প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গগুয়েজটা মূলত কি?

তাদের উদ্দেশ্য করেই বলতে চাই, প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ মূলত হলো কম্পিউটার এর ভাষা আমরা যেমন বাংলা ইংরেজি আরবি ফারসিতে কথা বলি। তেমনি প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ কম্পিউটার সিস্টেম এর ভাষা। আর আমিরা সচরাচর যে কাজগুলো আমাদের ফোনে বা ল্যাপটপে করে থাকি তা কিন্তু এই কম্পিউটার বা ল্যাপটপকে নির্দেশ দেয়ার মাধ্যমেই। যদিও আমরা তা আমাদের বোধগম্য ভাষায় দিয়ে থাকি। আমাদের এই ভাষা কম্পিউটার কিন্তু তার নিজের ভাষার কনভার্ট করে নেয়। যার কারণে মূল জিনিসটা আমাদের কাছে গোপনই রয়ে যায়।

যাই হোক পাইথন হলো এমন একটি প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ। যা দিয়ে আপনি সফটওয়্যার বানানো থেকে মেশিন লার্নিং এর কাজ পর্যন্ত করতে পারবেন। আর আজকের আর্টিকেলে উক্ত বিষয়গুলোই ফুটিয়ে তোলা হবে। সাথেই থাকুন।

পাইথন দিয়ে কি কি করা যায়?

আর্টিকেলের কিছুটা শুরুতেই আমি আপনাকে বলেছিলাম পাইথন মেশিন লার্নিং থেকে শুরু করে ডাটা সাইন্স এর কাজ পর্যন্তও করতে পারবেন। কিন্তু জিনিস একটু প্যাচানো হয়ে যায় তখন। কেননা এগুলোর কিছুই আমাদের কাছে তেমন বোধগম্য না। তো আমরা এবার একটু খুঁটিয়ে দেখব যে আপনি সত্যিই কি কি করতে পারবেন এই প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ এর দ্বারা। চলুন জেনে আসা যাক-

বোরিং জিনিসগুলোকে অটোমেট করা

বর্তমানে আমাদের কাজের পরিমাণ এত বেশি যে কাজ করতে করতে একটা পর্যায়ে যেয়ে বিরক্তির সৃষ্টি হয়। যার ফলে কাজটিও আর করা হয়ে উঠে না। কিন্তু এমন যদি হতো কেউ আমাদের ওই বোরিং কাজগুলোকে চুটকিতেই শেষ করে ফেলত? তাহলে বেশ হতো, তাই না?

হ্যাঁ, এই কথাকে মাথায় রেখেই পাইথনকে এমন ভাবে তৈরি করা হয়েছে যে আপনি এটি দ্বারা বিভিন্ন জিনিস অটোমেশন এর মাধ্যমেই করে ফেলতে পারবেন অর্থাৎ কোনো ভার্চুয়াল বটকে এই কাজে নিয়োজিত রাখতে পারবেন। আর পাইথন এর মাধ্যমে এই জিনিসটা এতটাই সহজ যে আপনি শুধুমাত্র কিছু লাইনের কোড লিখেই তা করতে পারবেন।

ক্যালকুলেটর তৈরি করা

পাইথন দিয়ে আপনি নিজেই একটি ক্যালকুলেটর বানিয়ে ফেলতে পারেন। আর এর জন্য আপনার প্রয়োজন পড়বে পাথন টিংকটার মডিউল এর। যার মাধ্যমে খুব সহজেই একটি ক্যালকুলেটর বানিয়ে ফেলা সম্ভব। অন্যান্য প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজে যেখানে হাজার হাজার লাইনের কোড প্রয়োজন সেখানে পাইথনে আপনি বিল্ট ইন মডিউল ব্যবহার করে কয়েক লাইনের কোড লিখেই ক্যালকুলেটর বানিয়ে ফেলতে পারেন।

নিজেই গেম বানিয়ে ফেলুন

যারা একটু মজা করতে ভালোবাসেন তাদের জন্য পাইথন হতে পারে প্রোগ্রামিং এর দুনিয়ায় এক অন্যতম মাধ্যম। পাইথন এর পাইগেমসের সুবাদে আপনি কিন্তু খুব সহজেই আপনার নামে একটি গেম বানিয়ে ফেলতে পারবেন।

পাজেল, এক্রেড কিংবা এডভেঞ্চার যাই বলুন না কেন, পাইথন এর মাধ্যমে আপনি যেকোনো রকম এর গেম বানিয়ে ফেলতে পারবেন। আর সবচেয়ে বড় কথা এর জন্য যে রিসোর্স প্রয়োজন তা আপনি আপনার পাইথন লাইব্রেরিতেই পেয়ে যাবেন। পাইথন যেহেতু ফ্রি তাই এগুলোর জন্যও কোনো ঝামেলা আপনাকে পোহাতে হবে না।

মেশিন লার্নিংকে স্বাগত জানান

অনেকেই এখন মেশিন লার্নিং বিষয়টাকে আয়ত্ত করে ফেলতে চান। তবে প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজগুলোর কঠিনত্ব তাদের দূরে ঠেলে রাখেন। কিন্তু পাইথন কিন্তু একদম ভিন্ন। আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর দুনিয়ায় পাইথন এক অনন্য স্থান দখল করে নিয়েছে। আপনি খুব সহজেই মেশিন লার্নিংকে আয়ত্তে আনতে পারেন পাইথন এর মাধ্যমে।

ওয়েব ডেভলপমেন্ট

বাংলাদেশে এখন অন্যতম একটি পেশায় পরিণত হয়েছে ওয়েবসাইট ডেভলপমেন্ট। উন্নত বিশ্বগুলোর পাশাপাশি দেশেও এখন এটা নিয়ে হালকা নাড়াচাড়া হচ্ছে। আর আপনি জেনে অবাক হবেন যে পাইথন এর জ্যাংগো ফ্রেমওয়ার্ক এর মাধ্যমে আপনি লাইভ স্ট্রিমিং , ডাইনামিক সব রকম ওয়েবসাইট বানিয়ে ফেলতে পারবেন।

অ্যাপ ডেভলপমেন্ট

অনেকের মনেই এই ইচ্ছাটা থেকেই যায় যে সে ওয়েব ডেভলপমেন্ট এর পাশাপাশি অ্যাপ নিয়েও কাজ করবে। কিন্তু এত প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ শেখার সময় কই তাই না?

আর সেজন্যই বলছি আপনি যদি দুটোই শিখতে চান তবে পাইথন শিখে ফেলুন। কেননা এর মাধ্যমে আপনি দুটোরই স্বাদ নিতে পারবেন।

পাইথন কেন শিখবেন?

আপনার মনে নিশ্চয় প্রশ্ন জেগেছে উপরের সব কাজই তো কোনো না কোনো প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ দিয়ে করা যায়। তাহলে আমি কেন আপনাকে পাইথন এর কথাই শুধু বলছি তাই না? হ্যাঁ এই বিষয়টিই এবার আপনার সাথে তুলে ধরব পাইথন এবং বাকি প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ গুলোর মাঝে পার্থক্য উপস্থাপনের মাধ্যমে। আর তাহলেই আপনার একটি ধারণা হয়তো হয়ে যাবে কেন আমি পাইথন এর কথা এত জোর দিয়ে বলছি।

পাইথন বনাম অন্যান্য প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ

এ পর্যায়ে আমরা জানব পাইথন এত বিশেষ কেন কি আছে তার মাঝে। চলুন শুরু করা যাক আমাদের পাইথন বনাম অন্যান্য প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ আলোচনাটি-

টাইপিং

পাইথন ও অন্যান্য প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ এর মধ্যে সবচেয়ে বড় যে পার্থক্যটা তা হলো টাইপিং। পাইথন এ যেখানে ২ থেকে ৪ লাইনের কোড লিখেই একটি যোগ করার ক্যালকুলেটর বানানো সম্ভব সেখানে সি এর জন্য আপনার প্রয়োজন এরই উপর একটি ২০ মিনিটের লেকচার। যা আপনি সি শুরু করলেই দেখতে পারেন।

পোর্টেবল ল্যাংগুয়েজ

আপনি হয়তো লিনাক্স এ একটি পাইথন কোড লিখেছেন। কিন্তু হঠাত করেই আপনার দরকার পড়লো তা উইন্ডোজে চালাতে হবে। এমতাবস্থায় কি করবেন?

অন্যান্য প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ হলে কিন্তু চিন্তাটা একটু বেড়ে যেত। তবে যেহেতু এটি পাইথন এর ব্যাপারে তাই আপনাকে ঘাবড়াতে হবে না মোটেও। লিনাক্সে লেখা কোড আপনি পাইথনে খুব সহজেই ব্যবহার করতে পারবেন।

কোড করতে সহজ

আপনি যদি একটু সার্চ দিয়ে দেখেন যে পৃথিবীর সবচেয়ে সহজ প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ কোনটি? তাহলে সবার প্রথমেই পেয়ে যাবেন পাইথন কে। যদিও কোনো কোনো জায়গায় এইচ টি এম এল কে দেখানো হয়। তবে এইচ টি এম এল কোনো প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ নয়। যাই হোক সম্প্রতি একটি রিপোর্টে বলা হয় যে পাইথন এর রিড এবিলিটি সবচেয়ে ভালো। আর একজন নন-কোডারও খুব সহজেই পাইথনে কি লেখা আছে তা বুঝতে পারেন। বলা হয়ে থাকে পাইথন কোড একদম ইংরেজিতেই। অর্থাৎ ইংরেজি জানলেই আপনি বুঝতে পারবেন এর ভিতর কি লেখা আছে কোনটার ফাংশন কি এসব।

সব প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজের সুবিধা একসাথে

আগেই বলেছি পাইথন দিয়ে আপনি কি কি করতে পারবেন। তবে একটু যদি অন্যান্য ল্যাংগুয়েজ গুলোর দিকে তাকান তাহলে দেখতে পারবেন যে এটাতে এই সীমাবদ্ধতা ওটাতে ওই। সব মিলিয়ে এটা দেখা যাচ্ছে যে আপনাকে একটি কাজ ভালো ভাবে করার জন্য আপনাকে একেক প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ এর সাহায্য নেয়া লাগছে।

তবে চিন্তা কি পাইথন থাকতে। আগেই বলেছি ওয়েব ডেভলপমেন্ট বা মেশিন লার্নিং যাই বলুন না কেন পাইথন দিয়ে প্রায় সবই করতে পারবেন। পাইথন এর এতো ডিমান্ড হওয়ার পিছনে এর ব্যবহার এর পরিসরও অনেকটাই ভূমিকা রেখেছে।

পরিশেষ-

পাইথন বর্তমানে অন্যতম একটি প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ। যা দিয়ে আপনি অনেক কিছুই করতে পারবেন। আর এই প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ শিখতে যে আপনাকে খুব কাঠখড় পুড়াতে হবে তা কিন্তু মোটেও নয়। খুব সহজেই পাইথন শিখে ফেলতে পারেন আপনি। তবে কথা একটাই তা হলো যা শিখবেন একদম বেস থেকে।

আশা করি উপরোক্ত তথ্যটুকু আপনার কাজে আসবে। আর এরকমই টেক এবং সাইন্স সমন্ধিত আর্টিকেল পেতে আমাদের সাথেই থাকুন।

You May Also Like

About the Author: বিশদ স্টাফ

হ্যালো,আমি বিশদ।

2 Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!