ডার্ক ওয়েব কি? কিভাবে এবং কি কি কাজে লাগে?

ডার্ক ওয়েব নাম শুনেননি এমন মানুষ বোধহয় খুব কমই আছে। কিন্তু আসলেই ডার্ক ওয়েব কি? ডার্ক ওয়েব কি প্রচলিত ইন্টারনেটের থেকে আলাদা? ডার্ক ওয়েব কারা ব্যবহার করে? ডার্ক ওয়েব কেমন করে কাজ করে? এধরনের সকল ডার্ক ওয়েব রিলেটেড প্রশ্নের উত্তর জানার চেষ্টা করব। আর পাশাপাশি ডার্ক ওয়েব নিয়ে সব ধরনের ভুল ধারণা এই আর্টিকেলের মাধ্যমে দূর করে দেব। তাই ডার্ক ওয়েব নিয়ে সব ধরনের বিশদ তথ্য জানতে চলুন শুরু করি।

ডার্ক ওয়েব কি?

আগে চলুন ডার্ক ওয়েবের সঙ্গে রিলেটেড কিছু জিনিসের সংজ্ঞা জেনে নেই।

ওপেন ওয়েব / সার্ফেস ওয়েবঃ এইটা হচ্ছে ওয়েবের পাবলিক অংশ। যেখানে চাইলেই যে কেউ সাধারণ কোন ব্রাউজার দিয়েই ভিজিট করতে পারবে। যেমন আপনি এখন এই লেখাটি পড়ছেন ওপেন ওয়েবে। এবং সেই সাথে এই অংশের সব সাইট ই মূলত সার্চ ইঞ্জিন যেমন গুগল, বিং, ডাকডাকগো এর মাধ্যমে খুঁজে পাওয়া সম্ভব।

ডিপ ওয়েবঃ এটা হচ্ছে সাধারণ ওপেন ওয়েবের বিপরীত সিস্টেম। অর্থাৎ এখানে সবাই ভিজিট করতে বা ডেটা দেখতে পারবেনা। বিশেষ ধরনের সার্চ ইঞ্জিন এবং অন্যান্য বিভিন্ন সিস্টেমে এই ধরনের সাইটে এক্সেস নিতে হয়।

বেশির ভাগ ডিপ ওয়েব সাইট হচ্ছে ডেটাবেজ। আপনি এই ধরনের ডেটাবেজ কিন্তু ওপেন ওয়েব থেকেও সিকিউর পদ্ধতিতে এক্সেস করতে পারবেন কিন্তু পাবলিকালি কেউ পারবেনা। যেমন মনে করুন সরকারি সাইটের ডেটা কিংবা হোটেল বুকিং, ই – কমার্স সাইটের ডেটাবেজ ডিপ ওয়েব এ সংরক্ষিত থাকে। এগুলো আপনি চাইলেই ভিজিট করতে পারবেন না।

ডার্ক ওয়েবঃ ডার্ক ওয়েব হচ্ছে কয়েক ধাপে এনক্রিপ্ট করা এমন কিছু ওয়েবসাইট যেগুলোকে আপনি সাধারণ সার্চ ইঞ্জিন দিয়ে খুঁজে পাবেন না। আবার সেই সাথে সাধারণ যেসব ব্রাউজার আমরা ব্যবহার করি সেগুলো দিয়ে এক্সেস বা ভিজিট ও করতে পারবেন না। ডার্ক ওয়েব ও ডিপ ওয়েব এর ছোট একটা অংশ।

ডার্ক ওয়েব বিস্তারিত

মূলত সব ধরনের, প্রায় সব ডার্ক ওয়েব ক্যাটেগরির সাইট গুলোই টর এনক্রিপশন এর মাধ্যমে এনক্রিপ্ট করা থাকে এবং আপনি যখন টর ব্রাউজার দিয়ে ব্রাউজ করেন তখন শুধুমাত্র সেই সাইটের ডেটা গুলা ডিক্রিপ্ট করা যায়। একারণেই টর ব্রাউজার দিয়ে আপনি ডার্ক ওয়েবের সাইট গুলো এক্সেস করতে পারেন।

টর ব্রাউজার মূলত আপনার আর ৫ টা প্রক্সি ব্রাউজারের বা ভিপিএনের মতোই আইপি এড্রেস স্পুফ বা চেঞ্জ করে ফেলে। কিন্তু অন্য প্রক্সি ব্রাউজার বা ভিপিএন এর তুলনায় টর বেশ কয়েক লেয়ারে কয়েক বার আপনার আইপি এড্রেস বিভিন্ন সার্ভার থেকে চেঞ্জ করে দেয় যেন আপনি আপনার সত্যিকার আইডেন্টিটি না জানিয়েই কোন সাইট ভিজিট করতে পারেন। টর ব্রাউজার দিয়ে সাধারণ ওয়েব সাইট কিংবা ডার্ক ওয়েবের সাইট যেটাই ভিজিট করুন না কেন সেম ভাবে আইপি এড্রেস স্পুফ হয়। তবে টর ব্রাউজার সেই সাথে ডার্ক ওয়েবের যে এড্রেসে আপনি ঢুকতে চাচ্ছেন সেটার ডেটাও ডিক্রিপট করে দেয়।

সব ধরনের সাইট ই যে টর এনক্রিপশন ব্যবহার করে তা ঠিক না, অনেকেই I2P এর অন্য এনক্রিপশন ও ব্যবহার করে থাকে। তাই আপনি যখন ডার্ক ওয়েবের স্পেসিফিক লিংক ভিজিট করতে যাবেন সেক্ষেত্রে আপনাকে ঐ এনক্রিপশন টুল এর জন্য যে ব্রাউজার সেটা ব্যবহার করেই ভিজিট করতে হবে। I2P এর এনক্রিপশন আপনি Tor দিয়ে ভিজিট করতে পারবেন না।

ডার্ক ওয়েবে কি আছে?

ডার্ক ওয়েব মানেই যে খারাপ কিছু তা কিন্তু না। আপনি এখানে চাইল্ড পর্নোগ্রাফির মতো ভয়ংকর জিনিস ও যেমন পাবেন সেই সাথে ইতিবাচক অনেক কিছুই করতে পারবেন। যেমন আপনি যদি চিন্তা করেন কোন এক নির্দিষ্ট মতাদর্শের জন্য জনমত গড়ে তুলবেন তাহলে যদি সেটা সাধারণত কোন সাইটে করতে যান সেক্ষেত্রে আপনাকে খুঁজে পাওয়া খুব সহজ হবে।

যেমন আপনি যদি এখন আমেরিকার কোন এক বিষয়ক গোপন ডেটা পেয়ে যান এবং সেগুলো ফাঁস করে দিতে চান তাহলে সার্ফেস ইন্টারনেট বা প্রচলিত আমাদের ইন্টারনেট এ প্রকাশ করলে আপনাকে সহজেই খুঁজে ধরে ফেলা যাবে কিন্তু এটা ডার্ক ওয়েব হলে অনেক গুলো লেয়ারের এনক্রিপশন থাকায় আপনি অনেকটা নিরাপদ থাকতে পারবেন। তবে অনেকটা বলেছি কারণ এক্ষেত্রেও ভালো স্কিলের হ্যাকার রা আপনাকে খুঁজে ফেলতে পারবে, এমন অনেক উদাহরণ ই আছে। স্পেসিফিকালি ডার্ক ওয়েবে আপনি ওপেন ওয়েবের সব ধরনের সেবাই পাবেন।

যেমনঃ

১। মেইল, সার্চ ইঞ্জিন, ভিডিও শেয়ারিং প্লাটফর্ম।

২। বিভিন্ন ধরনের উইকি।

৩। অনলাইন মার্কেটপ্ল।

৪। মাদক বেচাকেনার জন্য মার্কেট।

৫। অপরাধী ভাড়া নেয়ার জন্য স্পেশাল সার্ভিস,

সহ আরো নানান সেবা আপনি ডার্ক ওয়েব থেকে পাবেন।

ডার্ক ওয়েব কি কাজে লাগে?

মূলত প্রধান ৩ টি কারণে মানুষ ডার্ক ওয়েব ভিজিট করে

১। এনিনোমাস বা নিজেকে গোপন রাখতে : নিজেকে গোপন রাখার অনেক কারণ ই মানুষের থাকে। অনেকে নিজেকে বিপদ থেকে বাচাতে গোপন রাখে যেমন কোন কোন দেশে যদি আপনি নিজের স্বাধীনতা অনুযায়ী কথা বলতে না পারেন তাহলে সেক্ষেত্রে আপনি ডার্ক ওয়েবের মাধ্যমে নিজেকে গোপন রেখে কথা বলতে পারেন। এছাড়া অনেক কারণেই মানুষ নিজেকে গোপন রাখতে চাই এবং ডার্ক ওয়েব এই জন্য পারফেক্ট।

২। হিডেন সার্ভিস পেতে : হিডেন সার্ভিস বা অনেকে অনিওন সার্ভিস নামেও ডেকে থাকে, এরকম সার্ভিস গুলো আপনি ওপেন ওয়েবে খুঁজে পাবেন না সেক্ষেত্রে আপনাকে ডার্ক ওয়েবে যেতেই হবে। হিডেন সার্ভিস ওপেন ওয়েব এ না দিয়ে ডার্ক ওয়েবে দেয়ার কারণ হচ্ছে এখানে সাইট এর আইডেন্টিটি ও অনেক সিকিউর এবং আপনার আইডেন্টিটিও সিকিউর। তাই কেউ কারো আসল পরিচয় খুঁজে পাবেন না। ডার্ক ওয়েব নিজে কোন হিডেন সার্ভিস না হলেও অনেক সাইট যেগুলো ডার্ক ওয়েবে হোস্ট করা সেগুলো হিডেন সার্ভিস।

৩। অবৈধ কাজের জন্য : এটা সঠিক যে ইতিবাচক বা ভালো কাজের জন্য খুব কমই ডার্ক ওয়েব ব্যবহৃত হয় বরং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেও অবৈধ কাজের জন্য ডার্ক ওয়েব বিখ্যাত। ড্রাগ সেল করা, খুনি ভাড়া করা, চাইল্ড পর্নোগ্রাফি, রেডরুম এধরনের সব কাজ ই আপনি ডার্ক ওয়েব এ এভেইলেভল দেখতে পাবেন।

উইকিপিডিয়ার তথ্য মতে জানুয়ারি ২০১৫ অবধি ডার্ক ওয়েবের সবথেকে বেশি সাইট হচ্ছে মাদক বেচাকেনার। এরপরেই আছে প্রতারণা, বিটকয়েন বেচাকেনা, মেইল, উইকি এধরনের সাইট। অর্থাৎ সবচেয়ে বড় অংশ জুড়েই আছে অপরাধ এবং বেশিরভাগ মানুষ ঠিক এইকারনেই ডার্ক ওয়েব কে ভয় পায় বা নিষিদ্ধ মনে করে।

ডার্ক ওয়েব কি বৈধ?

ডার্ক ওয়েবে ভিজিট করে আপনি যতক্ষণ না কোন অবৈধ কাজ করছেন তখন ডার্ক ওয়েব বৈধ। তবে আপনি যদি অপরাধ করেন এবং নিজেকে গোপন রাখতে ডার্ক ওয়েব ব্যবহার করেন কিংবা কোন অবৈধ কাজ করতে ডার্ক ওয়েব ব্যবহার করেন তাহলে সেটা অবশ্যই অবৈধ এবং অপরাধ।

ডার্ক ওয়েবের রিস্ক কি আছে?

ডার্ক ওয়েবে ভিজিট করতে গিয়ে কখনো যদি নিজের তথ্য বা আইডেন্টিটি প্রকাশ পেয়ে যায় অর্থাৎ আপনার আসল ইমেইল বা আইপি এড্রেস এরকম কিছু প্রকাশ পেয়ে গেলে আপনি আসলেই অনেক বড় বিপদে পড়ে যাবেন। সিকিউরিটি স্পেশালিষ্ট বা হ্যাকার দের অবাধ বিচরণ ডার্ক ওয়েবে সেক্ষেত্রে আপনার তথ্য দিয়ে তারা যা খুশি করতে পারে। তাই ডার্ক ওয়েবের রিস্ক প্রচুর।

সবচেয়ে বেশি রিস্ক যখন আপনি ডার্ক ওয়েব দিয়ে অবৈধ কোন সাইট যেমন পর্ন সাইট বা এরকম ধরনের কোন সাইটে ঢুকবেন। এসব ক্ষেত্রে সবথেকে বেশি রিস্ক থাকে।

ডার্ক ওয়েবে কিভাবে ভিজিট করব?

এতক্ষণ যেহেতু পড়ে ফেলেছেন তাই ধারণা করছি ডার্ক ওয়েবের সম্বন্ধে আপনার ধারণা বেশ পাকাপোক্ত হয়েছে। এখন আপনি যদি মনস্থির করে থাকেন যে ডার্ক ওয়েবে ভিজিট করবেন তাহলে চলুন জার্নি শুরু করি। তবে একটা বিষয়ে সাবধান থাকবেন যে আপনার কোন রকম সমস্যা হলে আমি কিংবা বিশদ বা বিশদের সঙ্গে জড়িত কেউ ই সেই সমস্যার জন্য দায়ী থাকবেনা। পুরো দায়ভার আপনার নিজের।

তাহলে চলুন শুরু করা যাক। প্রথমেই আপনার কিছু টুলস প্রয়োজন হবে যেগুলোর কথা আগেই বলেছি। তবুও চলুন একবার দেখে নেই ( নিচের স্টেপগুলো মোবাইল কিংবা কম্পিউটার সব ক্ষেত্রেই কাজ করবে )

প্রথমেই আপনার লাগবে একটা সিকিউর ভিপিএন। হাল আমলের Nord VPN টা ইন্সটল করে নিতে পারেন সেই সাথে যদি এর প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন থাকে তাহলে বেশ ভালো হয়। যেটাই ইচ্ছা হয় সেই ভিপিএন ই ইন্সটল করে ফেলুন।

এরপরে লাগবে অনিওন ব্রাউজার যেমন Tor Browser, I2P ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারেন। তবে অ্যান্ড্রোয়েড ইউজার হয়ে থাকেন তাহলে লাগবে Orbot । পিসি হলে আমার সাজেশন Tor Browser ইন্সটল করে ফেলুন আর অ্যান্ড্রোয়েড হলে Orbot ।

ভিজিট করার জন্য লিংক। যেগুলো এই আর্টিকেলেই পেয়ে যাবেন। সব গুলো ইন্সটল হয়ে গেলে এখন আসল কাজ শুরু হবে। প্রথমত আমরা দুইতই পদ্ধতিতে ডার্ক ওয়েব ভিজিট করতে পারি।

১। Tor Over VPN

২। VPN Over Tor

আচ্ছা নাম দেখে কনফিউজিং লাগতে পারে তবে ব্যাপারটা সহজ চলুন ব্যাখ্যা করে দেখি।

১। Tor Over VPN : এটা খুব সিম্পল পদ্ধতি। এখানে প্রথমে আপনি VPN ইন্সটল করে ভিপিএন কানেক্ট করবেন এবং এর পরে আপনি Tor বা যে অনিওন ব্রাউজার ব্যবহার করছেন সেটা ইউজ করবেন। এক্ষেত্রে ভিপিএন এক্সট্রা লেয়ার হিসেবে কাজ করবে। আপনার প্রাইভেসির দিক টা দেখবে আপনার ভিপিএন এবং টর আপনাকে আপনার আইডেন্টিটি গোপন রাখতে সাহায্য করবে। এখন অবধি সবথেকে সিকিউর এবং সবথেকে পপুলার ডার্ক ওয়েব ভিজিটিং পদ্ধতি।

যখন আপনি টর ব্রাউজারে কোন সাইটে ঢুকতে যাবেন তখন সেই রিকুয়েস্ট প্রথমে যাবে ভিপিএন এর মধ্যে দিয়ে এবং আপনার সমস্ত জিও লোকেশন রিমুভ করে দেবে সেই সাথে আপনার আইপি এড্রেস স্পুফ করে দিবে এবং তারপরেই ঐ রিকুয়েস্ট টর এর কাছে যাবে। যেহেতু আগে থেকেই ভিপিএন আইপি স্পুফ করে দিচ্ছে তাই টর ব্রাউজার ও আপনার রিয়াল আইপি জানবে না যেটা আলাদা সিকিউরিটি দিচ্ছে।

সুবিধা :

১। মেটা ডেটা বা আইপি এড্রেস কোন কিছুই এই পদ্ধতিতে স্টোর হয়না।
২। পুরো ট্রাফিক এনক্রিপ্ট থাকে।

২। VPN Over Tor : এই সিস্টেম খুব একটা সিকিউর না তবে অনেকেই ব্যবহার করে। এই পদ্ধতিতে আপনি প্রথমেই আপনার রিকুয়েস্ট টর এ দিচ্ছেন এবং এর পড়ে সেই রিকুয়েস্ট ভিপিএন এ যাচ্ছে। যেহেতু প্রথমেই টর এ যাচ্ছে তাই আপনার ইন্টারনেট প্রোফাইডার বা ISP আপনার তথ্য থেকে বুঝতে পারবে যে আপনি ডার্ক ওয়েব ভিজিট করার চেষ্টা করছেন। এক্ষেত্রে ISP আপনাকে ব্লক করে রাখতে পারে এবং আপনার তথ্যও চাইলে হাতিয়ে নিতে পারে।

সুবিধা :

১। যদি আপনি ভিপিএন সার্ভিস প্রোভাইডার কে বিশ্বাস না করেন বরং ISP কে বেশি বিশ্বাস করেন তাহলে এটা ভালো পদ্ধতি।

২। ব্লক টর নোড গুলো এক্সেস করা যায় অর্থাৎ ফাস্ট কাজ করে।

যেহেতু প্রথম পদ্ধতি সবথেকে বেশি পপুলার এবং সিকিউর তাই প্রথম পদ্ধতিতেই আমরা এগিয়ে যাবো। তাহলে ভিপিএন ইন্সটল করে নিয়ে টর ব্রাউজারে ঢুকে পড়ুন।

সত্যি বলতে আসলে আমরা এতক্ষণে সব কনফিগার শেষ করে ফেলেছি এখন আমরা ভিজিট করার জন্য রেডি। টর ব্রাউজার ওপেন করেই দেখতে পাবেন যে এটা আর ৫ টা ব্রাউজারের মতো একদম সিম্পল। আপনি শুধুমাত্র নিচের যেকোন লিংক কপি করে পেস্ট করলেই ভিজিট করতে পারবেন।

তবে হ্যাঁ ভিজিট করতে একটু টাইম লাগবে কারণ বেশ কয়েকধাপ এনক্রিপশন এর জন্য আপনার নেট স্পিড একটু কমে যায়।

প্রয়োজনীয় ডার্ক ওয়েব লিংক

১। The Hidden WiKi

এটি হচ্ছে আমাদের উইকিপিডিয়ার ডার্ক ওয়েব রূপ। এখানে গিয়ে উইকিপিডিয়ার মতো বিভিন্ন বিষয়ে জানতে পারবেন। নিচের অনিওন লিংক দিয়ে ভিজিট করতে পারেন।

onion link: http://zqktlwi4fecvo6ri.onion/

২। Torch

এটি হচ্ছে গুগলের ডার্ক ওয়েব ভার্সন। পুরো ডার্ক ওয়েব জগত ঘুরে বেড়াতে গেলে আপনার প্রথম প্রয়োজন হবে একটা ভালো সার্চ ইঞ্জিন এবং এটা সেই কাজ ই করবে।

onion link: http://xmh57jrzrnw6insl.onion/

৩। DuckDuckGo

আপনি যদি সার্ফেস ওয়েবের ডাক ডাক গো কে চিনে থাকেন তাহলে আপনার জন্য সুখবর হচ্ছে ডার্ক ওয়েবেও আপনি পাচ্ছেন ডাক ডাক গো এর অফিসিয়াল ভার্সন। চাইলে আপনি নিচের লিংক থেকে ভিজিট করতে পারবেন এবং ইচ্ছামতো সার্চ করতে পারবেন

onion link: https://3g2upl4pq6kufc4m.onion/

৪। Daniel

আপনি যদি ডার্ক ওয়েবের জনপিয় লিংক গুলো একসঙ্গে ক্যাটেগরি আকারে পেতে চান তাহলে নিচের টর লিংক টা বেস্ট। এখানে বিভিন্ন ধরনের লিংক আপনি ক্যাটেগরি আকারে পেয়ে যাবে। নিজের ইচ্ছামতো চাইলেই সেগুলো ভিজিট করে দেখতে পারেন।

onion link: http://danielas3rtn54uwmofdo3x2bsdifr47huasnmbgqzfrec5ubupvtpid.onion/

ডার্ক ওয়েব ভিজিট করার সময় সতর্কতা

যত ভিপিএন কিংবা টর ব্রাউজার ই ব্যবহার করিনা কেন সত্যি বলতে রিস্ক আমাদের থেকেই যায়। আর এই রিস্ক এর জন্যই আমাদের অনেক সতর্কতা প্রয়োজন। যেমন

টর এর সিকিউরিটি সেটিং

যদিও টর এর ডিফল্ট সিকিউরিটি সিস্টেম বেশ ভালো এবং সেফ তবুও সাবধানের মাইর নেই তাই ব্রাউজারের আইকনে ক্লিক করে সিকিউরিটি সেটিং ওপেন করুন। এখন সেখান থেকে স্লাইডার ডান পেশে টেনে সিকিউরিটি বাড়িয়ে নিন। একদম সর্বোচ্চ করে নেয়াই উত্তম।

১। কখনোই আপনার ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড ব্যবহার করবেন না। কখনোই না।

২। মোটেও না জেনে কখনো কোন লিংকে ক্লিক করবেন না।

৩। আসল ইনফরমেশন দেয়ার কোন প্রয়োজন নাই। আপনি ইমেইল ব্যবহার করার ক্ষেত্রে সবসময় ডার্ক ওয়েবের ইমেইল ভার্সন ব্যবহার করবেন।

৪। এত সব সিকিউরিটি মেইন্টেন করেও যে আপনি ১০০% সেফ সেটা বলা যায় না। তাই কৌতূহল বশত ভিজিট করলেও কোন একশন যেমন কিছু কেনা বা বিক্রি করার চেষ্টা না করাই ভালো।

পরিশেষে

ডার্ক ওয়েব যেহেতু নিষিদ্ধ না এবং এর ভেতরে খারাপের পাশাপাশি ভালো ও আছে তাই আপনার কৌতহল কে একদম চাপা না দিয়ে সব সিকিউরিটি মেইনটেন করে ভিজিট করতে পারেন। এবং আশা করছি আপনার সেই আশা পূরণে আজকের এই আর্টিকেল যথেষ্ট ভূমিকা রাখবে। ডার্ক ওয়েব সম্বন্ধে আরো প্রশ্ন থাকলে জানাতে পারেন কমেন্ট বক্সে।

You May Also Like

About the Author: মোঃ আনছের আলী

ছোটবেলা থেকেই আকৃষ্ট প্রযুক্তির উপর। ২ জি"র আমল থেকে জাভা বাটন ফোন থেকে ইন্টারনেটে কনটেন্ট ব্রাউজিং শুরু। প্রযুক্তি যতটা আমাকে কাছে টেনে নিয়েছে। হয়তো অন্য কিছু আমাকে এতটা কাছে নিতে পারেনি। ভালোলাগে কঠিন জিনিসের সহজ ব্যাখ্যা করতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!