জিপিএস কি (GPS) কিভাবে কাজ করে?

আবিষ্কারের বিশ্বের এক অবাক বিস্ময় হলো জিপিএস। এখন এটা ভেবে বিস্মিত হতে হয় যে আপনি যেখানেই থাকুন না কেন, জিপিএস এর মাধ্যমে আপনার লোকেশন ট্রাক করে আপনার অবস্থানের খোঁজ পাওয়া যাবে। তবে বিস্ময়ের এখানেই কিন্তু শেষ নয়। আর তাই বিশদ আজকের আর্টিকেলে আপনার জন্য থাকছে জিপিএস কিভাবে কাজ করে সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্যাবলি।

জিপিএস কি ?


জিপিএস যার পূর্ণরূপ করলে দাঁড়ায় গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম। জিপিএস মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মালিকানাধীন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস ফোর্স দ্বারা পরিচালিত একটি উপগ্রহ-ভিত্তিক রেডিয়ানাভিগেশন সিস্টেম। যাকে একটু সহজ ভাষায় বলতে গেলে দাঁড়ায় একধরনের অবস্থান নির্দেশক ব্যবস্থা যা পুরোপুরিভাবে স্যাটেলাইট বা উপগ্রহের উপর নির্ভরশীল।

জিপিএস কিভাবে কাজ করে?

জিপিএস স্যাটেলাইট সিস্টেমটি মোট ২৪টি উপগ্রহের সমন্বয়ে তৈরি। যা ভূ-পৃষ্ঠ হতে ১৩ হাজার মাইল উপরে অবস্থান করছে এবং পৃথিবীকে ১৪০০০কিমি/ঘন্টা বেগে প্রদক্ষিণ করছে। আর এরই মধ্যে দিনরাত ২৪ ঘন্টাই এই স্যাটেলাইটগুলো আমাদের কিছু সিগন্যাল ট্রান্সমিট করে যাচ্ছে। ভেবে অবাক হতে হয় যে এই সিগন্যালের মাধ্যমেই একজনের অবস্থান বা লোকেশন ট্রাক করা সম্ভব । তবে কথা হলো এই সিগন্যাল দিয়ে কিভাবে কাজ হয়?

জিনিসটা একটু সহজ করে বলতে হলে এমন দাঁড়ায়। ধরা যাক তিনটি বৃত্ত পাশাপাশি অঙ্কন করা হলো এবং এই বিষয়টি দেখা গেল যে তিনটি বৃত্তই শুধু একটি বিন্দুতে মিলিত হয়েছে। আর একটি জিপিএসও ঠিক একইভাবে কাজ করে। আপনি যেমন তিনটি বৃত্ত অঙ্কন করে একটি বিন্দু বের করলেন তেমনি একটি জিপিএস সিস্টেম এর জন্য তিনটি থেকে চারটি স্যাটেলাইট সিগন্যাল পাঠিয়ে থাকে। স্যাটেলাইটগুলোর পাঠানো একাধিক সংকেতের উপর ভিত্তি করে আপনার অবস্থান কিংবা লোকেশন নির্ণয় করা হয়। আর এই সংকেত কারা গ্রহণ করে জানেন? আমাদের ফোনে থাকা জিপিএস চিপগুলো এই তিন-চারটি সংকেত গ্রহণ করে থাকে। তবে ঘাবড়ে যাওয়ার কিছু নেই আমাদের ফোন থেকে কোনো সিগন্যাল পাঠানো হয় না।

জিপিএস সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাবলি

জিপিএস ও জিপিএস যেভাবে কাজ করে এ সম্পর্কে আমাদের একটি ধারণা এই মূহুর্তে হয়ে গেছে। তবে এর বাইরেও জিপিএস এর যে আরো কিছু জিনিস রয়েছে যা না জানলেই নয় তা হলো এর সম্পর্কিত কিছু তথ্যাবলি। যেগুলো হলো-

  • কক্ষপথে উপগ্রহ: ৩১
  • মোট উপগ্রহ: ৩৩
  • নির্ভুলতা: ৫০০–৩০সেমি (১৬–০.৯৮ফুট)
  • কক্ষপথের উচ্চতা: ২০,১৮০ কিলোমিটার (১২,৫৪০মাইল)
  • অপারেটর: মার্কিন স্পেস ফোর্স
  • প্রথম লঞ্চ: ফেব্রুয়ারি ১৯৭৮; ৪২ বছর আগে মোট লঞ্চ: ৭২।
  • জিপিএস স্যাটেলাইট উচ্চতা : জিপিএস উপগ্রহগুলি প্রায় ১২,৫৫০ মাইল উচ্চতায় মধ্যম পৃথিবীর কক্ষপথে উড়ে যায়। প্রতিটি উপগ্রহ দিনে দুবার পৃথিবী প্রদক্ষিণ করে।
  • জিপিএস কম্পাঙ্ক মাত্রা: প্রতিটি জিপিএস উপগ্রহ দুটি ফ্রিকোয়েন্সি, এল ১(১৫৭৫.৪২ মেগাহার্টজ) এবং এল ২(১২২৭.৬০ মেগাহার্টজ) তে ডেটা সংক্রমণ করে। উপগ্রহের উপরে থাকা পারমাণবিক ঘড়িগুলি ১০.২৩মেগাহার্টজ মৌলিক এল-ব্যান্ড ফ্রিকোয়েন্সি উত্পাদন করে। এল ১ এবং এল ২ ক্যারিয়ার ফ্রিকোয়েন্সিগুলি যথাক্রমে ১৫৪ এবং ১২০ দ্বারা মৌলিক ফ্রিকোয়েন্সি গুণ করে উৎপন্ন হয়।
  • জিপিএস এর বিভাগ: গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন ইউটিলিটি যা ব্যবহারকারীদের পজিশনিং, নেভিগেশন এর মতো পরিষেবাগুলি সরবরাহ করে থাকে। আর এই সিস্টেমে মূলত তিনটি বিভাগ রয়েছে। যা হলো-
    • স্পেস সেগমেন্ট
    • নিয়ন্ত্রণ বিভাগ
    • ব্যবহারকারী বিভাগ।

জিপিএস এর উদ্ভব ও আবিষ্কারের সময়কাল

জিপিএস এখন আমরা মূলত আমাদের লোকেশন বের করতে কিংবা কোনো অপরিচিত জায়গায় ঠিক অবস্থান খুঁজতে ব্যবহার করে থাকি। তবে এর আবিষ্কার এ জন্য হয়নি। আবিষ্কারের কাহিনি কিংবা কারণটা পুরোই ভিন্ন ছিল।

জিপিএসের উদ্ভব ঘটে স্পুটনিক যুগে যখন বিজ্ঞানীরা “ডপলার এফেক্ট” নামে পরিচিত তার রেডিও সিগন্যালে শিফট স্যাটেলাইটটি ট্র্যাক করতে সক্ষম হন। আর জিপিএস টেকনোলজির শুরুটা হয় ঠিক ১৯৭৩ সালে। তবে মানুষের সামনে তা প্রথমবারের মতো উন্মুক্ত করা হয় ১৯৮০ এর দশকে। আর এই সময়টাতে এখনকার মতো জিপিএস এর এত বেশি প্রচলন ছিল না। তখন জিপিএস মানেই অন্যরকম ব্যাপার সেপার ছিল। আর এর বেশিরভাগ ব্যবহারই ছিল জাহাজ কিংবা সামরিক কেন্দ্রিক। শুরুর দিকে জাহাজের নাবিকরাই জিপিএস সম্পর্কে বেশি জ্ঞান রাখতো এবং তারাই তা বেশি ব্যবহার করতো।

জিপিএস ও ইন্টারনেট

আমরা এখন সবাই জানি যে প্রতিটি মোবাইল কিংবা গাড়ি যাই বলুন না কেন সবগুলোতেই জিপিএস সহজলভ্য।কিন্তু একটা বিষয় কখনো কি খেয়াল করে দেখেছেন যে ইন্টারনেট ছাড়া জিপিএস চলে কিনা? হয়তো বা না। কিন্তু উত্তর হচ্ছে হ্যাঁ। আইওএস এবং অ্যান্ড্রয়েড ফোন উভয়েরই যেকোন ম্যাপিং অ্যাপ্লিকেশনে ইন্টারনেট সংযোগের প্রয়োজন ছাড়াই আপনার অবস্থানটি ট্র্যাক করার ক্ষমতা রয়েছে। আর উক্ত বিষয়টি আপনি ডাটা অফ করে ফোনের লোকেশন অন করলেই বুঝতে পারবেন। আর আপনার যখন কোনও ডাটা সংযোগ থাকে তখন আপনার ফোনটিতে অ্যাসিস্টেড জিপিএস বা এ-জিপিএস ব্যবহার হয়। যা একটু অধিক কার্যকর।

জিপিএস এর প্রধান উদ্দেশ্য

জিপিএস এর শুরুটা হয় সামরিক প্রয়োজনকে কেন্দ্র করে। তবে বর্তমানে সামরিক ও বেসামরিক উভয় ব্যবহারকারীদের দ্বারাই জিপিএস ব্যবহৃত হয় ভোগলিক স্থানগুলির সঠিক অবস্থান নির্ধারণের জন্য । এছাড়াও নাবিকরা এখনো তাদের ঠিক অবস্থান নির্ণয়ের ক্ষেত্রে যাত্রা পথে জিপিএস এর সাহায্য নিয়ে থাকে। আর দৈনন্দিন এর নতুন কিছু ফিচার যুক্ত হওয়ার কারণে এর ব্যবহারের পরিসর আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে।

জিপিএস ও অন্যান্য নেভিগেশন সিস্টেম

বিশ্বব্যাপী জিপিএস এখন এক জনপ্রিয়তার নাম কামিয়েছে। আর এর মুল মালিক হলো যুক্তরাষ্ট্র সরকার। তবে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম/ জিপিএস এর পাশাপাশি আরো কিছু নেভিগেশন স্যাটেলাইট রয়েছে। আর পৃথিবীর এই প্রধান চারটি গ্লোবাল নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেমগুলির মধ্যে জিপিএস একটি। সেগুলো-

  • জিপিএস (ইউএস)
  • গ্লোনাএস (রাশিয়া)
  • গ্যালিলিও (ইইউ)
  • বিডিউ (চীন)
    এছাড়াও অতিরিক্তভাবে, দুটি আঞ্চলিক ব্যবস্থা রয়েছে – কিউ,জেড,এস,এস (জাপান) এবং আই,আর,এন,এস,এস বা নাভিক (ভারত)।

জিপিএস এর ভবিষ্যৎ

জিপিএস এর ভবিষ্যতের কথা বলতে গেলে বলতে হবে এর আরো কিছু সম্ভাব্য ফিচারের কথা। আর এরই মধ্যে একটির কথা না বললেই নয় সেটি হলো জিপিএস-৩। জিপিএস-৩ স্যাটেলাইটগুলি প্রায় ২০২৫ এর মধ্যে চালু হবে । তাদের আরও বেশি ট্রান্সমিট শক্তি থাকার কারণে জিপিএস অভ্যর্থনা আরও নির্ভরযোগ্য হতে পারে। এমনকি বাড়ির অভ্যন্তরে এবং ঘন শহরাঞ্চলেও নিজের অবস্থান দেখতে পারবেন। নতুন সফ্টওয়্যারটির বিকাশের সাথে সাথে, ২০২০ এর দশকে জিপিএস গাড়ি ট্র্যাকারগুলি আরো বেশি সমৃদ্ধ হবে বলে সবাই আশাবাদী। জিপিএস ট্র্যাকিংয়ের ভবিষ্যত ব্যক্তিগত ট্র্যাকিংয়ের পাশাপাশি ব্যবসায়িক ব্যবহারের জন্য আরও সঠিক ও কার্যকর হতে চলেছে যা আমাদের সবার জন্যই এক মহা খুশীর খবর।

জিপিএস এর সুবিধাবলী


গ্রাহকরা যেমন দ্রুত পরিসেবা, দ্রুত সরবরাহের সময়, চালান ট্র্যাকিং এবং কাস্টমাইজড বিতরণ প্রয়োজনীয়তার পুরো পরিসীমা আশা করে চলেছেন জিপিএসও তেমনি এর সুবিধাগুলো দিয়েই যাচ্ছে । পাশাপাশি নেভিগেশনের জন্য একটি পুরো জাহাজের বহরের জন্যও যাত্রাপথকে করেছে আরও সহজ। আর গ্লোবাল পজিশনিং স্যাটেলাইট (জিপিএস) ট্র্যাকিং সিস্টেমের মতো ক্রমাগত বিকশিত বহর পরিচালন সরঞ্জামগুলির সাথে প্রতিটি ব্যবসায়ের একটি সহজ সমাধান সহজেই উপলব্ধ হয়ে উঠছে। জিপিএস ট্র্যাকিংয়ের সুবিধা যে কোনও বহর মালিকের কাছে অমূল্য। একটি পুরো বহর ট্র্যাকিং সিস্টেম প্রয়োগ করে পরিচালকরা তাদের পুরো বহরে অভূতপূর্ব মাত্রায় অ্যাক্সেস এবং নিয়ন্ত্রণ পান এবং আপনি যখন কোনও জিপিএস ট্র্যাকিং সিস্টেম ব্যবহার করেন তখন প্রতিটি জাহাজ ট্র্যাক করতে সক্ষম হন। আপনি যে সমস্ত সুবিধা আশা করতে পারেন তার কেবলমাত্র শুরু। কেননা আরোও যে সেবাগুলো পাচ্ছেন জিপিএস এর কাছে তা হলো-

  • সুরক্ষা উন্নতিঃ জিপিএস এর মাধ্যমে বহর পরিচালনাকারীরাও জানতে পারবেন যে কোনও যানবাহনের যদি কোনও সহায়তার প্রয়োজন হয় তবে এটি ঠিক কোথায় রয়েছে সেই অবস্থান । এর মাধ্যমে কোনও ভাঙ্গা ইঞ্জিন হোক বা যে কোনও জরুরি পরিস্থিতিতে, বহর পরিচালনকারীরা তাদের সহায়তা করতে রাস্তার পাশে সহায়তা পাঠাতে পারেন।
  • জ্বালানী ব্যয়ের মিনিমাইজঃ গ্যাসের মূল্য কেউ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, তবে জিপিএস ট্র্যাকিং সিস্টেমের অন্যতম সেরা সুবিধা হ’ল কোনও গাড়ির জ্বালানী খরচ পর্যবেক্ষণ করার ক্ষমতা। নিরীক্ষণ সফ্টওয়্যারটি গাড়ির আইডলিং, ড্রাইভারের গতি বাড়ানো, কোনও অনুমোদিত ব্যবহার বাদ দিয়ে জ্বালানীতে ব্যয় করা পরিমাণের পরিমাণ হ্রাস করবে এবং এর মাধ্যমে বহর পরিচালকদের ড্রাইভিং রুটগুলি অনুকূল করতে সক্ষম করবে।
  • চুরি রিকভারিঃ যানবাহন চুরির ক্ষেত্রে যে কোনও সংস্থার জন্য একটি জিপিএস ট্র্যাকিং সিস্টেমই হতে পারে সেরা সরঞ্জাম। গাড়িটি চুরি হয়েছে কিনা তা সনাক্ত করতে এবং সতর্কতা ও ম্যাপিং ডেটা সহ আপনাকে অবহিত করুন এবং দ্রুত পুনরুদ্ধার সক্ষম করতে তার অবস্থান কর্তৃপক্ষকে অবহিত করুন। এর মাধ্যমে গাড়ী চুরি হলে খুব সহজেই তা খুঁজে পেতে পারবেন।
  • নিম্ন অপারেশনাল ব্যয়ঃ জিপিএস ট্র্যাকিং সফ্টওয়্যার ব্যবহার করে বহর পরিচালকদের কারোর অকার্যকর উদ্দেশ্যে কে বা কেউ অযৌক্তিক উদ্দেশ্যে কোনও গাড়ি ব্যবহার করছে তা দেখার অনুমতি দেয়। এটি কেবলমাত্র রাস্তার সমস্যাগুলিতেই সমাধান করবে না পাশাপাশি চালকরা কাজ করেছেন কি না তার বিষয়ে সঠিক পাঠ্য সরবরাহ করে।
  • উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিঃ ড্রাইভারদের কাজ ট্র্যাক করার ক্ষমতার কারণে এটি বহর পরিচালকদের কোনও কর্মচারীর সময়ের আরও ভাল ব্যবহার করতে দেয়। জিপিএস ট্র্যাকিং সফ্টওয়্যারটি আপনার ড্রাইভারগুলি সর্বদা কোথায় রয়েছে তা দেখায় এবং সেই সময়ে তারা কী কাজ করছে তা রেকর্ড করে। জিপিএস ট্র্যাকিংয়ের সুবিধাগুলি অফুরন্ত। কর্মীরা কীভাবে সম্পাদন করছে তার একটি আরও ভাল উপলব্ধি পান এবং একটি বিস্তৃত বহর ট্র্যাকিং সিস্টেমের সাহায্যে কাজের চাপগুলি পরিচালনা করার আরও ভাল উপায়গুলি পান। কেবলমাত্র আপনি সময় এবং অর্থ সাশ্রয় করবেন না, তবে আপনার ড্রাইভারগুলি নিরাপদ হবে এবং তাদের সম্পূর্ণ সম্ভাবনার জন্য সম্পাদন করবে। এর সবগুলিই একটি মসৃণ ব্যবসায়িক ক্রিয়াকলাপ এবং আপনার গ্রাহকের প্রত্যেককে পছন্দ করবে উন্নত গ্রাহক পরিসেবা যুক্ত করে।
  • নেভিগেশন: সম্ভবত জিপিএসের সবচেয়ে সাধারণ ব্যবহার নেভিগেশন সিস্টেমগুলিতে। মানচিত্র প্রযুক্তির সাথে একত্রিত হয়ে এটি সড়ক যানবাহন এবং নৌকোগুলির একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হয়ে ওঠে। জিপিএস কোনও ডিভাইসের অবস্থান যথার্থতার সাথে চিহ্নিত করতে পারে এবং স্থানাঙ্কগুলির সাথে তুলনা করে, পরিসংখ্যানগুলি ডিভাইসগুলির গতি এবং গতির দিক নির্ণয় করতে ব্যবহৃত হতে পারে। এই তথ্যটি রিয়েল টাইমে পয়েন্ট এ থেকে পয়েন্ট বি পর্যন্ত ধাপে ধাপে নির্দেশাবলী সরবরাহ করতে ব্যবহার করা যেতে পারে।
  • পারিবারিক সুরক্ষা: জিপিএস ট্র্যাকিং পিতামাতারা তাদের বাচ্চাদের ট্যাব রাখতে ব্যবহার করতে পারেন। স্বামী বা স্ত্রীরাও তাদের অংশীদারদের নজর রাখতে একই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারে। শ্রমিকরা এবং অন্যান্যরাও ব্যক্তিগত সুরক্ষার জন্য জিপিএস ট্র্যাকিং ব্যবহার করতে পারেন, যাতে কোনও জরুরি অবস্থা থাকলে তাদের অবস্থানটি জানা যায়।
  • সামরিক ব্যবহার: নেভিগেশন এবং অন্যান্য সাধারণ ব্যবহারে কার্যকর হওয়ার পাশাপাশি, গাইডেড মিসাইলগুলির জন্য লক্ষ্য নির্ধারণ করার সময় সামরিক বাহিনী জিপিএস নিয়োগ করে। ক্ষেপণাস্ত্রগুলিকে নির্দিষ্ট স্থানাঙ্কের সেট দেওয়ার মাধ্যমে জিপিএস নির্ভুলতার উন্নতি করে, এবং যথাযথ ক্ষতিটিকে হ্রাসের মাধ্যমে হ্রাস করে।
  • নমনীয় রুট বিকল্পসমূহ: জিপিএস আপনাকে লাইভ টাইমে রুট পছন্দ দেয়, নমনীয়তা সক্ষম করে। আপনি আপনার বিশেষ প্রয়োজন বা ইচ্ছা অনুযায়ী কোনও রুট বেছে নিতে পারেন। আপনি যদি কোনও ভুল পালা নেন, জিপিএস ব্যবহার করে একটি নতুন রুট গণনা করা যায়। যদি আপনার রুট কোনও ঘটনা দ্বারা অবরুদ্ধ হয়ে যায় তবে জিপিএস একটি নতুন পাথওয়ে গণনা করতে ব্যবহার করা যেতে পারে।
  • সমীক্ষা ক্ষেত্রেঃ নির্মাণ বা উন্নয়নের আগে জমি জরিপ হয়। সময়ের সাথে সাথে, জিপিএস ধীরে ধীরে ঐতিহ্যবাহী জমি জরিপ কৌশলগুলি প্রতিস্থাপন করেছে, মূলত এটি সস্তা, দ্রুত এবং সাধারণত আরও সঠিক হয় এটি বেশিরভাগ সময় দিনের চেয়ে জিপিএস সহ কয়েক ঘন্টা সময় নেয়।
  • আপডেট এবং রক্ষণাবেক্ষণঃ মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ কর্তৃক জিপিএস সিস্টেমের জন্য অর্থ প্রদান করা, আপডেট করা এবং রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়, যাতে এটি সর্বদা নির্ভুল থাকে। বেশিরভাগ সফ্টওয়্যার, অ্যাপস এবং ডিভাইস যা জিপিএস ব্যবহার করে সেগুলি নিয়মিত আপডেট করা হয়, সুতরাং একটি ঐতিহ্যগত মুদ্রিত মানচিত্রের বিপরীতে যা কিছু সময়ের পরে অতিক্রান্ত হয়, জিপিএস এবং সম্পর্কিত প্রযুক্তিতে তা সাধারণত খুব নির্ভুল থাকে।

জিপিএস টেকনোলজি আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে অনেক সহজ করে দিয়েছে। আমাদের চলাফেরার প্রতিটি ক্ষেত্রেই জিপিএস প্রভাব বিস্তার করছে। বিশ্বের আধুনিক এবং উন্নত সব দেশই এই জিপিএস ব্যবহার করছে তাদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তায়। তাই চলুন এই একবিংশ শতাব্দীতে জিপিএস টেকনোলজি এর যথাযথ উন্নয়ন এবং ব্যবহারের মাধ্যমে আমরাও আমাদের দেশকে নিয়ে চলি এক উন্নয়নের দোর গোড়ায়-এই হোক আমাদের কল্পনা।

আশাকরি জিপিএস এবং কিভাবে কাজ করে ও জিপিএস এর মাধ্যমে যা যা সুবিধা পাওয়া যায় আপনি এই আর্টিকেল পড়ে জানতে পেরেছেন। আর্টিকেলটি যদি ভালো থাকে তাহলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না ।

You May Also Like

About the Author: মোঃ আনছের আলী

ছোটবেলা থেকেই আকৃষ্ট প্রযুক্তির উপর। ২ জি"র আমল থেকে জাভা বাটন ফোন থেকে ইন্টারনেটে কনটেন্ট ব্রাউজিং শুরু। প্রযুক্তি যতটা আমাকে কাছে টেনে নিয়েছে। হয়তো অন্য কিছু আমাকে এতটা কাছে নিতে পারেনি। ভালোলাগে কঠিন জিনিসের সহজ ব্যাখ্যা করতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!